Saturday, September 15, 2012

বশিষ্ঠের অপেক্ষা


বশিষ্ঠ অপেক্ষায় অক্লান্ত যুগ জিজ্ঞাসাভুলে গেছে পাশা খেলা...ভুলে গেছে বিবস্ত্রা দ্রৌপদী...সময় এখন তাই ধিকৄত নির্বাসনে আছে।

 বশিষ্ঠ না দ্বৈপায়ন...কে যেন  প্রশ্ন তুলল!

একটা ছোটো গল্প আছে - বলি তাহলে - একবার রাজর্ষি নিমি তার যজ্ঞের পুরোহিত হওয়ার জন্য বশিষ্ঠ কে অনুরোধ করতে এলেন, তো তখন আলরেডি বশিষ্ঠ এনগেজড ইন্দ্রের যজ্ঞে। ফলে নিমির রাজসূয় যজ্ঞে পৌরোহিত্যের জন্য সময় চাইলেন, নিমি কে অপেক্ষা করতে বললেন, হাতের কাজ টা সেরে নিয়ে যাবেন বলে - মানে ইন্দ্রের যজ্ঞ সেরে। তো তখনকার দিনে তো ব্রাহ্মণত্ব আর ক্ষত্রিয়ত্ব নিয়ে একটা ব্যাপার ছিলই - কে বড় ইত্যাদি। তো বশিষ্ঠ ভাবলেন আমি অপেক্ষা করতে বলেছি, যাবে কই, অপেক্ষা করবে মানে নিমির যজ্ঞ বশিষ্ঠের জন্য অপেক্ষা করবে।

ইন্দ্রের যজ্ঞ সেরে ফিরে এসে দেখলেন নিমি অনেক আগেই চলে গেছে, আর শুধু তাই নয়, গৌতম ঋষি কে দিয়ে যজ্ঞ করিয়েও ফেলেছে - নাকি চলছে। রাগে অগ্নিশর্মা ব্যাস অভিশাপ, নিমি কে বললেন যে চেতনার ভ্রষ্ট উপরোধে তুমি ব্রাহ্মণ কে অপমান করলে, সেই চেতনাই তোমার চলে যাবে, তুমি জড়ভরত হয়ে যাবে। তো নিমিও তো যজ্ঞ টজ্ঞ করে ব্রাহ্মণ আর ভগবান ভজিয়ে কিছু পুণ্য সঞ্চয় করেছিলেন, জড়ভরত হবার আগে দিলেন পাল্টা অভিশাপ - যে উন্মাদ রাগের বসে তুমি এ কাণ্ড করলে সে তো ঋষি বা মুনির কাজ নয়, সেটা বশিষ্ঠ রুপী মানুষটার কাজ - সে শরীরটার কাণ্ড, আর তাই তুমিও শরীর বিহীন আত্মা হয়ে যাবে। ব্যাস তারপর দুজনেরিই ঝামেলি'র শুরু -   একজন জড়ভরত আর একজন কায়াহীন ছায়া।

এদিকে কুকম্ম করে ফেলেই তো বশিষ্ঠ বুঝেছে ঠেলাটা, ফলে দৌরদৌরি শুরু ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর কাছে দরবার - দেহ দাও। ব্রহ্মা আর বিষ্ণুও ধড়িবাজ - এত সহজে,  দাঁড়াও। শেষমেশ নাছোর বশিষ্ঠের কাছে হার মেনে দুজনেই বলল ঠিক আছে আপনি গিয়ে অমুক জায়গায় একটা কুন্ড বানান তার নাম হবে বশিষ্ঠ কুন্ড।  আমরা এসে তাতে জল ভরব, আর সে জলে চান সারলেই কেল্লা ফতে - শরীর আসবে। বশিষ্ঠ তো জায়গামত গিয়ে - আত্মা হলে হবে কি তেজ তো আছে, সেই তেজবলেই কুন্ড বানাল, ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর দেখা নেই, বশিষ্ঠ অপেক্ষায় আছে। বেশি ট্যান্ডাই ম্যান্ডাই ও করতে পারছেনা, শরীর বলে কথা। সেই অনন্ত অপেক্ষার পর ওঁরা দুজন এলেন, তারপর তো গল্প শেষ মানে বাদ বাকি হল মায় শরীর লাভ অব্দি।

যুগ জিজ্ঞাসা গুলোও ওই বশিষ্ঠের তেজের মতই তীব্র, তীক্ষ্ণ কিন্তু কায়াহীন আর তাদের অক্লান্ত ব্যাস্ততা সেই কায়ার খোঁজেই। নিজের শরীর নিয়ে এতো আত্মলীন হয়ে আছে সেই জিজ্ঞাসা যে বাস্তবের সাথে যোগাযোগ নেই, আর তাই সময় ..।

কবিতার কথাতেই বলি সেই কায়াসন্ধানই  তো চলছে -  জিজ্ঞাসার নামে এক একটা বশিষ্ঠ অপেক্ষা - কায়া পাওয়ার অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে - আজও এখনও -  তীব্র সে জিজ্ঞাসা তীক্ষ্ণ বটে কিন্তু ...

শুধু নিঃশ্বাসের চেতনায় চিন্ময় হলেও মুর্তিগুলো মাটিহীন 
মাটি চাই সে মাটির রূপ চাই টান চাই চোখের আদল চাই 
যদিও অরন্য ঝড় হা হা করে হেসে ওঠে পাগলের মত 
সে অরন্য মাটিতে প্রথিত হোক - "Avatar"  অরন্য নয়
শুধু ছেঁড়া ফুর্তির মত উলঙ্গ উল্লাস নয়
দ্রাক্ষারস মদ মাংস হাহাকার হা হা হাঁসি 
সভ্যতার রক্তস্নানে মেতে উঠে রক্তধারা পান হোক
অন্ধকার হামাগুড়ি অপেক্ষার ঈগল শুন্যতায় ভেসে থাক
কামনা ছড়ানো থাক ভুজঙ্গ নিঃশ্বাসে

অর্থ - চিন্তা - সহজপ্রকৃতি


কিছু লিখছিলাম একটা পাতায় - তো লিখতে লিখতেই আরও কিছু কথা মাথায় এল - নাকি ছিল, ভেসে উঠল। সে ছাই যেটাই হোক আরও কিছু ছাই পাঁশ এলই যখন ছাঁকনি দিয়ে তুলে রাখি -

এক্সিস্টেন্সিয়ালিস্ম আজকের যুগের নিরিখে যে ছাপটুকু রেখে গেছে সেটা একাদিক্রমে ঐতিহাসিক সুত্রেই ভেবে চলেছে একটু ভিন্ন আঙ্গিকের রঙ নিয়ে  যে লাইফ ইস মিনিংলেস, ইউনিভারস ইস পারপাসলেশ আর সোসাইটি বা সময় এর কথাও বলাই বাহুল্য ...সমাপতনে  শেষ যখন আসে সেই শেষ ততটাই অর্থপূর্ণ বা অর্থহীন  যতটা এই জীবন ছিল। দারুন নাকি নিদারুন। মজা এইটাই যে যতটা বোল্ড বা কারেজিয়াস হোক না কেন অ্যাজ এ প্রেসেন্টেসান এই বোধ টা -  it does not seem to provide succor either  to the  one who is a sufferer or to the mind that has presented it. Then why  present such things. 

আর এইখানেই এসে পড়ে এই অর্থ খোঁজার ধরন বা পদ্ধতির প্রসঙ্গ । এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে জীবনের ইমপ্লিসিট অর্থ কখনই এরকম নয়। সেটা অনেক বেশী ইন্সটিঙ্কটিভ আর জীবনের অন্যান্য দায়ের সঙ্গে যুক্ত - যেখানে যাপন জড়িয়ে আছে, একদিকে নিড আর অন্যদিকে ডিসায়ার, একদিকে প্রয়োজন যা কিছু আবশ্যক আর অন্যদিকে স্পৃহা অভিলাষ আকাঙ্খা কামনা আর তার টানাপোড়েনের থেকে সেই অর্থের পশ্চাদ্ধাবন । ওইখানে সে বাঁচে, সে হয়ে ওঠে সেই এক সামাজিক জীব যে পারিপার্শ্বিকের মধ্যে ক্রমাগত নিজেকে ফিট আরও ফিট করে চলেছে তার জীবনের ইন্সটিঙ্কটিভ অর্থ খোঁজার ছন্দে।

কিন্তু সে তো সবটাই সেই সামাজিক জীব নয়, কিছুটা হলেও নিজেকে নিয়ে নিজের জন্য যাকে বলে সেই ডারউইনিয় প্রোটোপ্লাস্মিক এন্টিটি, যে ইভল্ভ করে বা করবার প্রথাসিদ্ধ কতগুলো পন্থায় ব্যাপৃত থাকে। শিল্পাচার। 

সেখানে শুরু রিফ্লেকটিভ মিনিং বা চিন্তাশীল অর্থের দ্যোতনাময় উপস্থাপনা বা নিবেদন বা উপহার - যাই নাম দেওয়া যাক, আর সে সেটা রাখে তার সেই প্রথাসিদ্ধ পন্থার মোড়কে, তার শিল্পাচার। আমরা নাম দিই স্টাইল। আর এইখানেই এটা একটু কমপ্লিকেটেড আর দুর্বোদ্ধ হয়ে যায় সময়ে সময়ে। এই চিন্তাশীল  অর্থবোধ সাধারনত সেই ডারউইনিয় প্রসেস অফ সিলেক্সান আর রিজেক্সানের মধ্যে দিয়ে আসে না বা সেই তত্ত্বের অমোঘতার শেকলে বাঁধা নয়। তা যদি হত তাহলে যে এক্সিস্টেন্সিয়াল ডোমেন এর অবধারন বা বোধের থেকে সে তার জৈবনিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে সামাজিক জীব হিসেবে ইভল্ভ করে সেই ইভল্ভ করার প্রবৃত্তি টা থাকা স্বাভাবিক ছিল। চিন্তাশীলতার ইভল্ভ করার কথা।  যেখানে করে সেখানে সব কিছুকে নিয়ে সব কিছু সত্ত্বেও সে চর্চা জীবনকে ছুঁতে চায়, জয়গানের কথা বলছি না, ছুঁয়ে থাকার কথা বলছি।     আর যেখানে ইভল্ভ করে না সেখানে শুধুই চিন্তা শুধুই আশ্লেষ শুধুই উদ্বেগ শুধুই তার মাঝে নিরলম্ব অবস্থান। 

কথা হচ্ছে তাহলে এর পারপাস টা কি? শধু আমার অর্থেই আমার জীবন কোথায় দাঁড়াল? আদৌ দাঁড়াল কি? অনেক প্রশ্ন সেখানে ভীড় করে। আমি আমার মত করে একটা উত্তর পেয়েছি। এখানে দর্শন মানে চিন্তাশীলতা আমি'ময় হয়েছে এতটাই যে আমিই চার্বাক আর জীবন প্রায় নির্বাক শুধু তার অ্যানক্সাইটির রুপের দায়ভাগের  অস্তিত্ব টুকু টিকে আছে। শিল্পচর্চা শিল্পবোধ শিল্পচর্যা প্রতিষ্ঠিত হয়, জীবন নয়। এবং যে যুক্তি এর সপক্ষে দেওয়া হয় বা যে কথা বলা হয় সেই সুত্রে তা হল - জীবন তো অনেকটাই অর্থহীন তাহলে সে প্রতিষ্ঠিত হয় কি করে! বা তাকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় কি করে। আর তাই উঠে আসে শুধু রুপবিন্যাসের কথকথা। সে কথকথাই বা কতটা জোরালো প্রশ্ন থেকেই যায়!

আমি রুপে তোমায় ভোলাবনা
ভালোবাসায় ভোলাব
আমি হাত দিয়ে দ্বার খুলবনা গো
গান গেয়ে ...

রূপ গুণ নয়, তাই তো শব্দ দুইখান  - রূপ আর গুণ। তো গুণ যেখানে নেই সেখানে ভুলতে হয় রুপে ভোলো,  আর না ভুললে তফাৎ যাও, তোমার গোত্র আলাদা,  চিন্তাশীলতায়  অর্থ খোঁজার গোত্র।  প্রবচন - "অধিকাংশ রুপসীর হাঁসির শোভা মাংশপেশীর কৃতিত্ব, তার হৃদয়ের কৃতিত্ব নয়"... মস্তিস্কের মাংসপেশীর। হৃদয়ে হৃদয় নেই হৃদপিণ্ডে হৃদরোগ জবর দখলী - বিনিময়ে আমি শুধু কিছু তাপ দিতে পারি যা কিনা জ্বরের বিকার - যা দেখছ আমায় সময় দিয়েছে  আমার কি করার ছিল। সত্যিই তো - 

আমি মরালিস্ট নই তাই মন্দ ভালোর  বিচার করবো না । আমি ভলতেয়ার নই তাই ঠিক ভুলের পর্যালোচনার হিম্মত রাখি না। সুন্দর অসুন্দর নিয়ে কিছুটা মাথা ঘামাই কারন সেটা প্রাকৃত নিয়ম । 

আর তাই হুমায়ুন আজাদের কবিতার মতই বিশ্বাস করে যাব -

তুমিই সৌন্দর্য আজও দুই চোখে (হে জীবন) তোমার ধ্যানেতেই আছি মগ্ন অহর্নিশ
পরিমাপ করে যাই অনন্ত দ্রাক্ষার উৎস ঢালতে পার কতখানি বিষ... 

Saturday, March 17, 2012

প্রেতাত্মার প্রাণ ... (৪)


চৈত্রের দুপুর ঘর বাঁধবার খড় খুঁজতে বেরিয়েছে একঝাঁক চড়াই বাবুই শালিখ, ওদের বুকের হলুদ রঙ যেন কেমন একটু ফ্যাকাসে। ওরা কি তৃষ্ণার্ত না এক বুক দুঃখের ভারে ফ্যাকাসে হয়েছে! মাথার ওপরে আকাশ একিই সঙ্গে চণ্ডালের রাগ নিয়ে দাউ দাউ আবার ডোমের নিঃস্পৃহতায় খুঁচিয়ে চলেছে আগুনের ধার আর ওদের ওড়ার ভাষায় ক্লান্তি।

ঠেক আর ঠিকানা, একটা রোজ দিনের শেষে বা রাত ভজিয়ে দাসভিদানিয়া বলে উঠে এসেও ফিরে বসার জায়গা, আর অন্যটা সেই অচিনপুর - থাকে বলেই ঠেকের প্রাণে বিষের জাদু কুসুম গন্ধ নাহয় প্রেমের হলুদ নীল বা তাল সুপুরির লম্বা ছায়া লাল সবুজের ভয়াল নিশান পদ্মদীঘির শান বাধান ঘাটলা জেগে থাকে। ওই ঠিকানার সন্ধান করতে করতেই এক জীবনে কারুর জীবন হয় উলানোভার মরালনৃত্য, আর কারুর জন্য ফুটপাথে ব্রিজের নীচে বাঁধা ঘরের শুকনো হাঁড়িতে ইঁদুরের মাথা ঠোকা, তলপেট পড়ে গেছে তলপেটেরও নীচে, বোবা জন্তুর ক্ষিদে চোখে মুখে। 

আকাশের আর মাটির চিড়িয়ারা একিই সন্ধানে মাতে সময়ের ভাঁজে। আর আমি দেখতে দেখতে ক্লান্ত গোধূলি ছুঁয়েছি, শালিখ তুমি মনে রেখ, আর ফুটপাথে পাইপের ঘরে ব্রিজের নীচে মানুষ তুমি ঠোঁট টিপে হাসছ, হাসবেই তো, ক্যাসুয়াল লিভ নিয়ে বিপ্লবে নামি আর তারপর সাগর সৈকতে বা পাহারের খাঁজে অবসর বিনোদন, ক্লান্তির ধুলো ঝেরে ফেলতে, আর তার মাঝে কিছু আধাসচেতন মনের ক্লান্তি অনুতাপের টেলিপ্রিন্টারে শব্দ তোলে -  আর কতদিন, আয়নায় বিবর্ণ মুখ। সুতরাং দেখা গেল কেউই সুখী নয়...নাকি এও আর এক দুঃখ দুঃখ খেলা!!!

কুঁয়োর ব্যাঙের কাছে কুঁয়োর মাথায় ঝুলে থাকা আকাশটাই ব্রহ্মাণ্ড আর মেড়ের দেয়ালের জমা শেওলা সাগরপারের অচিন বিস্ময় - কলম্বাসও বোধহয় এতটা বিস্ময় নিয়ে রোজ নতুন ভূখণ্ড দেখে নি। মাথার ওপর মাধ্যন্দিনের সূর্য তাঁর রক্তে ডাক দিলে গলগণ্ড ফুলিয়ে ষে গান গায় শিল্প করে।

বহুপরিচর্যাজাত তবু থাকি পরিচয় হীন,  তারি খোঁজে ছোটাছুটি, দূরে কাছে সদরে অন্দরে, দীর্ঘ সময়ের বুকে ঘোরাঘুরি ছোটাছুটি করে ফিরে এলে পরে যার দেখা পাই তাঁর পরিচয়ে ভরে না হৃদয়,শুধু বুকের আকাশ জুড়ে জমে ওঠে মেঘ,জলহীন সেই মেঘে বৃষ্টিও নামেনা। তবু ভালোলাগা থাকে এ এক আশ্চর্য বিস্ময়... ভালোলাগা
বাসন্তী গাছের মতই...ফুল দিয়ে ঋতু শেষে ঝরে যায়, মরে যায় বীজ ছেড়ে যায়, বার বার ঋতুমতী হতে...

 বোধ আর ভাবের এই দীর্ঘসূত্রী দ্বৈত চুড়ায় আমি এক দীর্ঘসূত্রী দ্বৈপায়নী হ্যামলেট - টু বি অর নট টু বি'র পাঞ্জালড়াইয়ে সারাক্ষণ কাঁপছি আর কাঁপছি।

প্রেতাত্মার প্রাণ ... (৩)


আনকাহিনীর টান - ছট ছট মনের আয়নায় উঁকি দিলাম প্রতিবিম্ব বলল দাঁড়াও, একটু সেজে নিই তারপর... হবেই তো অনেক আনকাহিনীর টানাপোড়েন তাই সব কিছু আলুস ঝুলুস, গল্প কথা দেখা দেয় কি করে এমন দুম করে।

মন কি ইচ্ছে করলেই সব কাহন কাহন গল্প ফিরিয়ে দিতে পারে! হয় না হয় না সেটা, এরকম সময়েই আলু থালু চিত্ত বলে দাঁড়াও, সবুর, একটু সেজে নিই তারপর দেখ'খন আর আমি তখন সব ছেড়ে বসে থাকি ধৈর্য পরীক্ষায়। কখন মন দেখা দেবে একটু সেজে একটু গুজে আনকাহিনীর ভ্রমর কথা - অনেক হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি, অনেক নিহত প্রেমের নিভে যাওয়া ফানুস অনেক দুরের দিনের মেঘের রঙ ময়ূরপঙ্খি আনকাহিনী, অনেক সাধ সাধ্যের আড়াআড়ির ফেরিওয়ালা হাঁক আরও কত কিছু - রত্নাকর ছেড়ে গেছে ধুলভরা মনের জাঙালে, মন ভামিনী বিলাসিনী নাগরির মত অপাঙ্গে হাসবে ...কি গো নাগর কি খুঁজছ!

তখন একটা আধটা টুকরোই নাগালে আসে, একসঙ্গে অনেকগুলো নয়, সেটা হলে যেন সেই প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এলো দশজনা সব মুখেতেই ছায়া থাকায় কাউকেই পুরো দেখা হয় না। দশজন দশকথা আনকথা আর সারা হয় না তাদের সাথে।

একবার তো সেই আনকাহিনীর খোঁজে বেরিয়ে অসমাপ্ত অসম্পূর্ণ ছবির চিতায় আগুন দিতে গিয়ে আমারই মতো অপেক্ষারত আরেক মানুষ দেখে চমকে উঠেছিলাম - ভিখিরির মত শ্মশানে লোকটা কি করছে? ভীষণ ভয়ে মুখটা পরিষ্কার দেখতেও চাইনি, পালিয়ে এসেছিলাম... আমার ছায়া নয় তো!

মনে আছে দৌড়ে পালিয়ে আসার সময় পেছন পানে তাকাতেই দেখেছিলাম সেটা উঠে পড়ে দুলকি চালে হেঁটে আসছে আমার দৌড়ে পালানো রাস্তা ধরে। ভয় টা অনেকদিন ছেঁকে রেখে ছিল। আনকাহিনীর ভামিনীর দরজা মাড়াতে গেলেই শ্মশানের ছায়াটার দুলকি চাল - এ যেন পুরাণ  কথার না চাওয়া গন্ধর্ব বিবাহের জের।

খিদে তো মরে না আনকাহিনীর, একদিন ছায়াটাই ক্লান্ত হয়ে গেলো, কত আর পেছু নেবে। আমিও ফিরলাম স্মৃতির জনতাবধুর স্তন রস নিংড়ে নিতে - নাহ হ এ যেন বাখের ডাবল কনচের্তো ই মেজরে বাজান হয়ে যাচ্ছে, আনকাহিনীর বেসুর পছন্দ নয়, মৃদু কণ্ঠে বলল - উইল ইউ স্টপ ইট!  অস্ফুটে বলা কথা কিন্তু মনে হল সেটাই যেন আকাশ আছড়ান প্রতিবাদ। আবার ভয় পেলাম ঠিকানা হারান মানুষরা যেমন পায়। 

নাহ আজ আর ভালো লাগছেনা। তপ্ত নই তৃপ্ত নই স্মৃতির গম্বুজ শুধু ডালা খোলা ভয়ের তোরঙ - অভাবের অনুভাব স্মৃতির জাঙালে। 
ঘুম কেড়ে নেওয়া নির্লজ্জ রাতটা দাঁত কেলিয়ে হাসছে। ছাড়ব না, আমি পুনর্জন্মে বিশ্বাসী, আমি আবার ফিরব এখানে ভামিনী এ যে আমার মানবজমিন।

প্রেতাত্মার প্রাণ ...(২)


নিলাদ্রি বলল - যারা আজ নেই তাদের সাথে কথা বলতে হলে উজান বেয়ে সময়ের উল্টো রাস্তায় হাঁটা দেওয়া ছাড়া ... সত্যি, কি অমোঘ। মাঝে মাঝেই মনের তারে মীড়ের টান - তখন উচাটন মন - যদি হত যদি এমন হত আমি সময়ের উজান পেছন পানে নয়,  সময়ের উল্টো দিক থেকে হাঁটতে হাঁটতে আজকের দিকে ফিরতাম, তাহলে ওই সব সময়ের কাছাকাছি হলে হাতের গেলাসটা নামিয়ে রেখেই বলতাম - চল শিবাজি আবার হারাই।

হয় না, সে আর হয় না। সময় একার নয়, একাকী তো নয়ই
সময় বহতা থাকে - আমি শুধু নেশাতুর ফিরে যাই সেই বাঁকে 

আমাদের মেসের একটা দারুণ বারান্দা ছিল। মেরে কেটে দুটো চেয়ার আর একটা টুল পাতা যেত আর দূরের মানে বারান্দার দরজা থেকে দূরের চেয়ারটাতে বসতে হলে বা বসা থেকে উঠে আসতে হলে সামনের জনকে বেশ সন্ত্রস্ত হতে হত, কারন প্রায় কোল ডিঙ্গিয়ে আসতে হত।
তো সেই বারান্দায় আমি আর অচিন গরমকালের এক সন্ধ্যেয় বিয়ার নিয়ে বসেছি, কতই বা পেতাম তখন, তারি মাঝে একটু আধটু ওই সব মানে লাক্সারি আর কি। হলঘরের অন্যপ্রান্তে জ্বলা একটা বাল্বের আলোয় বিরাট লম্বা ছায়া ফেলে নভেন্দু'দা হাজির। অন্ধকার হয়ে গেছে বাইরের আকাশ। বারান্দায় দরজাতে পা রেখেই সামনে টুলে রাখা বিয়ারের বোতলটা হাতে নিতেই অচিন বলল ঢাল না ঢেলে নাও। বলেই একটু খিক খিক করল। অচিনের ওই খিক খিক টা খুব গায়ে জ্বালা ধরানর মত, দেখি নভেন্দু'দা খুব গম্ভীর গলায় বোতলটা নামিয়ে রাখতে রাখতে বলছে - "আমি ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করি না। খেয়াল করি নি অচিনের সাথে গল্প করতে করতে যে ও বার দুএক ঢেলে বোতল টা খালি করে দিয়েছে। আমি ব্যাস্ত হলাম নভেন্দু'দা কে আমার বোতলটা এগিয়ে দিতে, আর ঠিক তখনি অচিনের আর একটা গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো মন্তব্য - "কিন্তু ছুঁচোটার তো স্বর্গলাভ হতে পারতো, ওই হাতে মরে।।" 

ঠা ঠা করে হেসে ওঠা নভেন্দু'দার দরাজ স্বর - ছাদের দু একটা পায়রা ঝট পট করে জায়গা বদল করল। "শুয়ার বোতল শেষ করে দিয়ে এখন রস ঢালছ..."  দু একটা আরও অশ্রাব্য অশ্লীল কথা, তারপর আমার বোতলে চুমুক।

নভেন্দু সেন। কলকাতা আর্ট কলেজের ছাত্র ছিল। পাশ টাস করে বিয়ের পর প্রয়োজনের তাগিদে ষ্টীল সিটির স্কুলে আর্ট এর টিচার । আমাদের আর আমাদের মতো অনেকের জীবনে লোকটা ছিল এক ঐশ্বরিক উপস্থিতি। না প্রভার দ্যূতিতে নয়, প্রাণের। ছোটো খাট লোকটার ছিল অদম্য প্রাণশক্তি, আর সেটা খরচাও করত চার হাতে। ও ছিল আমাদের স্বপ্ন কারিগর, ও না হলে আমাদের আড্ডা খুব সহজেই মিইয়ে যেত। 

আমরা প্রায়ই মধ্যরাতের শেষ যামে বোতল খালি হলে তিন চারজন - শিবাজি আমি অচিন দেবাশীস অলক - আমরা যেতাম ওকে ওঁর বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসতে, অনেক সময় হয়েছে ওঁর বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আড্ডার মায়া কাটাতে পারছি না, আর তখন দোতলার জানলার ফাঁক দিয়ে একটা আওয়াজ আসত - আড্ডা টা শেষ করে আসলে হতো না এখানে, এ বাড়ির আর সবাই কেও কি ঘুমতে দেবে না তোমরা। ভদ্রমহিলা আসলে কি এক অদ্ভুত জীবনের চলার ছন্দে নভেন্দু'দার সব কিছুকেই মনে নিয়েছিলেন, মেনে নয়, আর তাই এতো অনাচারে অত্যাচারের পরেও আমরা কোনদিন তাঁর কাছে ব্রাত্য হই নি।

নভেন্দু'দা মারা যাওয়ার পর তাঁর কাছে যেতে পারিনি, সাদা কাপর পড়া তাকে দেখতে পারব না বলে। সাদা হয়ত উনি পরেন নি, কিন্তু নভেন্দু'দা ছাড়া উনি - সামনে যেতে পারি নি। ওঁর বড় মেয়ে ফোন করেছিল - কাকু আসবে না? বলেছিলাম - না রে পারব না...। মেয়েটাও নভেন্দু'দার মেয়ে তো নভেন্দু'দার মতই আর তাই অল্প হেসেছিল ফোনের ওপার থেকে - আচ্ছা।

ভেতরের যে বিশ্ব আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে আছে, কখনো কখনো সেটা এতো গুরুভার।

Saturday, March 3, 2012

মরণ দিয়েছে ডাক এস হে নাচা যাক


উলুধ্বনি খৈ আর খঞ্জনি, 
খাটখানা কাঁধে নিয়ে দ্রুতবেগে ছুটে গেলো চার জন লোক;
সঙ্গে গেল একপাল কচি কাঁচা, উত্সাহি জো্য়ান মানুষ
স্মশানের দিকে
বল হরি হরি বোল -  
লাশটাও কালা হয়ে যেতে পারে
এমন চিত্কার শুনে ঘাঢ় ফেরাতেই 
বাতাসে ছিট্‌কে এলো একমুঠো খৈ আর খুচ্‌রো পয়সা
ইজের নেংটি আর ন্যাংটোর হুটো পুটি -
আস্টে পৃষ্টে দড়ি বাঁধা লাশটার নিশ্চি্ন্ত বিশ্বাষ
এমন হরি'র নাম, এমন হরি'র লুঠ, 
স্বর্গে তো যাবোই। 

প্রেতাত্মার প্রান ...

"অনেক দিন আগের কথা, বেনারসের ঘাটে বসে আছি, সেই সময়ের কথাগুলো ভাবলে বেশ রোমাঞ্চ হয়, মানে তখন আমি কলেজে পড়ি। সে সময়ে আমার একটা অভ্যেস ছিল মাঝে মাঝে হঠাৎ হঠাৎ কারুকে কিছু না বলে  আমার ইচ্ছে গুলোর সাথে ইলোপ করা। তার মানে এই নয় যে একেবারে নিরুদ্দেশ হয়ে যেতাম, কারন জানতাম যে তাহলে বাবা ইলোপ করার ইচ্ছের ঘরে তালা মেরে দেবে, তাই যোগাযোগ রাখতাম। সে সময়ে যোগাযোগ রাখার এত সুবিধা ছিল না, মোবাইলের নাম কেউ শোনে নি, এস টি ডি' ও হত না, ট্রাঙ্ক কল বুক করে টেলিফোনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত, অনেক সময়ে সেটা ম্যাচিউর করত না, তাই বেস্ট ভরসা ছিল টেলিগ্রাম। পোষ্টাপিসে গিয়ে ফর্ম ভরো আর পয়সা দাও, তার বাবু খট খটা খট টক টকা টক তারের বাদ্যি বাজিয়ে খবর পাঠিয়ে দেবেন, তো সেবারও খবর টবর দিয়ে নিশ্চিন্ত আছি। দশাশ্বমেধ ঘাটের সন্ধ্যা, লোকে প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাসাচ্ছে, এধারে গুটিকয় দেহ দাউ দাউ করে জ্বলছে..." গেলাসের মৌতাতে আড্ডা টা বেশ জমিয়ে তুলেছিল অনির্বাণ, হঠাৎ আমার মনে হল আমিও তো এরকমই নিরুদ্দেশ হতাম, তবে সেটা অনেক পরে, মানে চাকরি করি তখন, সাবালক, বিয়ে থা করিনি, একটা রয়াল এনফিল্ড কিনেছি। আশির মধ্য ভাগের কথা, রাজীব গান্ধীর দৌলতে পাঁচ দিনের সপ্তাহ চালু হয়েছে, তো মাঝে মাঝেই শুক্রবার বিকেলে আফিসের পর শিবাজির সাথে নিরুদ্দেশে চলে যাই, সেরকমই একবার সোমবার ছুটি ছিল কেটে পড়েছি। সোমবার সন্ধেতে ফিরে দেখি মেসে তালা, কি আর করা একটা বোতল এনে আমি আর শিবাজি বসে পড়লাম, আড্ডা মারতে মারতে কখন দুজনেই মাটিতেই ঘুমিয়ে পড়েছি, ভোর রাত্রে আমাদের রক্ষক অন্নদাতা ধনঞ্জয় ফিরল দেশ থেকে, বুঝলাম কিন্তু উঠিনি, তারপর ঘুমের ঘোর কাটল যখন শুনতে পেলাম নভেন্দু'দা জিজ্ঞেস করছে ধনঞ্জয় কে "ওরা কখন ফিরল" - তাতে তার উত্তর ছিল "ওরা তো ফেরেনি"।
পরে সে কথাটা নিয়ে আমাদের সে কি হাঁসা হাঁসি, সত্যি তো নেশার ঘর থেকে আমরা তো তখনো ফিরিনি।
তবে কথাটা ঠিক ওই ভাবে বলেনি ও। ধনঞ্জয় বৃহস্পতিবার বাড়ি গেছিলো, ফিরেছে মঙ্গলবার ভোরে, ও জানেই না আমরা এ কদিন ছিলাম না, তাই ও বলেছে আমরা তো যাই নি কোথাও, ফিরব মানে? তারপর নভেন্দু'দা বলেছিল তোমাদের খোঁজে আমরা প্রায় পুলিসে খবর দিচ্ছিলাম।
খেয়াল হল অনির্বাণ তখনো তার গল্প বলে চলেছে, নিজেকে কিরকম প্রেতাত্মার মত মনে হল, অতীতে ডুবে থাকা বর্তমান ছেড়ে - মৌতাতে আবার ডুবলাম

শীতের মধ্যে হঠাৎ


কোথাও কিচ্ছু নেই শীতের শুকনো আকাশে শীতটাও ঠিক নেই
হঠাৎ কোথাত্থেকে বেচটকা ঝড় হাওয়া
একঝাঁক বৃষ্টি ঘুরে গেল এই শহরের বুকে -
এদিক সেদিক রাস্তার ওপরে ভাঙ্গা ডাল, জমা জল
রিক্সার গুঁতোগুঁতি - বাস কিম্বা অটো নেই
দুজনেরই চটির অবস্থা যখন তখন।
এরপর দুজনেই চলে যাবে নিজেদের দিকে। 
একটু আগের সেই উসখুসে দুজনকে থমথমে 
কিছুটা বা উদবিঘ্ন দেখায়,
দুজনের চোখে শুধু ভাঙ্গা ডাল আর শুধু বৃষ্টির জল।
প্রেমিক প্রেমিকা নয়, বাস স্টপে 
ভিজবে না এই ভেবে দাঁড়ান মানুষ আর মানুষীর গল্প এটা ।
একটু বেশি বয়সের তাড়া বেশি তাই হাঁটা দিলো,
আজ শনিবার, ওষুধ কেনার দিন,
অফিস ফেরার পথে একটা পাকা পেঁপে - মা বলেছিল,
হন হন হাঁটার ফাঁকেতে এদিক সেদিক দেখা
কোথায় সাধের পেঁপে।
কমবয়সীর অতো তাড়া নেই,
নেই কেউ অপেক্ষায় যার কথা ভেবে হনহনে হাঁটা দেবে -
আজ তার ইচ্ছে সে গোটা শহরের কতজন ছাতাধারি 
বরষাতি গায়ে কতজন,
কজন বারান্দায় কতজন খুঁজে ফেরে মাথাটা গোঁজার ঠাঁই
সেসব গুনবে ঘুরে ঘুরে।
প্যান্ট ভেজা, চটিটাও প্রায় ছিঁড়ে গেছে,
তবুও যুবক, অসম্ভব জোরে হাঁটে -
অনেক গুনতি বাকি।
……………………………………………………………………

নাদের আলি - আর কেউ খোজে না তোমাকে



সুনীলের হাহাকার লোক টা কি শুনেছিলো?
"নাদের আলি আমি আর কতো বড় হবো, আমার মাথা এ ঘরের..."
লোকটা কেমন  ছিল, নাদের আলি?
পারানির মাঝি ছিল? বহুবার এ পাড় ও পাড় 
ঘাট থেকে ঘাটে নিয়ে যেত?
নিজের কাজের মাঝে বরাভয় বন্ধু হয়ে 
মাছ, পাখি, জল আর আকাশ চেনাত'?
নদীর চড়ার গাছ, কাশ ফুল, ঝিলমিলে জল
এসব দেখাতে নিয়ে,
(নাকি আরও বেশি দিত কিশোরকে স্বাধীনতা ?)?????
কখনো হঠাৎ বৈঠাটা তুলে দিত হাতে
নাও,  দাঁর বাও! 
তারপর হুঁকো টায় আগুন ধরিয়ে গলুইয়ের কোনে বসে
সুখটান দিত?
নাকি ছিল বাগানের মালি, কিম্বা ঘোড়ার সহিশ ?
বাপ কাকা জেঠা দের নজর এড়িয়ে 
গাছেতে চড়তে দিত?  কিম্বা ঘোড়ার পিঠে ?
চাবুকটা হাতে দিত সাবধান করে ?
"একদম চালাবে না”!
কিশোর তাতেই খুশি, বড়দের দুনিয়াটা হাতের মুঠোয় পেয়ে!
এভাবেই একদিন ৪৭ পেরিয়ে তারা এ পার ও পার
মাঝে কাঁটাতার - ও পারে নাদের আর এ পারে সুনীল!
পদ্মদীঘির বিল - হায়রে সুনীল;
নাদেরও কি কষ্ট পেয়েছিলো সুনীলের হাহাকার শুনে ?
এরকম বহুবার ঘটে গেছে পৃথিবীর বুকে,
উপলক্ষ কিছু পেলে লাগে নি সময়
টেনে দিতে আড়াআড়ি মানুষের বুকে কাঁটাতার,
প্রিয়জন এ পার ও পার,
থেকে গেছে শুধু হাহাকার!


..................................................................

(কিছুদিন আগের কবিতা - ২০১১ মার্চ)

Tuesday, January 10, 2012



And then there was night ! But not darkness ! That's what Life should be all about - Light  reminding that there is always darkness ! And Darkness assuaging all fears with the light in it - Behold & Believe! Yeh Jeevan hai - ees Jeevan ka - Yehi Hai Yehi Hai, Yehi hai Rang Roop! Saanso ki dor isime bandhi hai!





The fire in the evening Sky! Was it a promise of continued fight with darkness! I believe. Behold & Pray!




It was the evening of a January Sky. The line was hedged with trees. and on the line up there was this great golden Orb Tantalisingly poised to tell you that his time is up for the day! What a glorious way of Exit, as if telling don't worry I will be there again tomorrow! that's hope, that's light, that's something to look forward!