Saturday, September 15, 2012

অর্থ - চিন্তা - সহজপ্রকৃতি


কিছু লিখছিলাম একটা পাতায় - তো লিখতে লিখতেই আরও কিছু কথা মাথায় এল - নাকি ছিল, ভেসে উঠল। সে ছাই যেটাই হোক আরও কিছু ছাই পাঁশ এলই যখন ছাঁকনি দিয়ে তুলে রাখি -

এক্সিস্টেন্সিয়ালিস্ম আজকের যুগের নিরিখে যে ছাপটুকু রেখে গেছে সেটা একাদিক্রমে ঐতিহাসিক সুত্রেই ভেবে চলেছে একটু ভিন্ন আঙ্গিকের রঙ নিয়ে  যে লাইফ ইস মিনিংলেস, ইউনিভারস ইস পারপাসলেশ আর সোসাইটি বা সময় এর কথাও বলাই বাহুল্য ...সমাপতনে  শেষ যখন আসে সেই শেষ ততটাই অর্থপূর্ণ বা অর্থহীন  যতটা এই জীবন ছিল। দারুন নাকি নিদারুন। মজা এইটাই যে যতটা বোল্ড বা কারেজিয়াস হোক না কেন অ্যাজ এ প্রেসেন্টেসান এই বোধ টা -  it does not seem to provide succor either  to the  one who is a sufferer or to the mind that has presented it. Then why  present such things. 

আর এইখানেই এসে পড়ে এই অর্থ খোঁজার ধরন বা পদ্ধতির প্রসঙ্গ । এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে জীবনের ইমপ্লিসিট অর্থ কখনই এরকম নয়। সেটা অনেক বেশী ইন্সটিঙ্কটিভ আর জীবনের অন্যান্য দায়ের সঙ্গে যুক্ত - যেখানে যাপন জড়িয়ে আছে, একদিকে নিড আর অন্যদিকে ডিসায়ার, একদিকে প্রয়োজন যা কিছু আবশ্যক আর অন্যদিকে স্পৃহা অভিলাষ আকাঙ্খা কামনা আর তার টানাপোড়েনের থেকে সেই অর্থের পশ্চাদ্ধাবন । ওইখানে সে বাঁচে, সে হয়ে ওঠে সেই এক সামাজিক জীব যে পারিপার্শ্বিকের মধ্যে ক্রমাগত নিজেকে ফিট আরও ফিট করে চলেছে তার জীবনের ইন্সটিঙ্কটিভ অর্থ খোঁজার ছন্দে।

কিন্তু সে তো সবটাই সেই সামাজিক জীব নয়, কিছুটা হলেও নিজেকে নিয়ে নিজের জন্য যাকে বলে সেই ডারউইনিয় প্রোটোপ্লাস্মিক এন্টিটি, যে ইভল্ভ করে বা করবার প্রথাসিদ্ধ কতগুলো পন্থায় ব্যাপৃত থাকে। শিল্পাচার। 

সেখানে শুরু রিফ্লেকটিভ মিনিং বা চিন্তাশীল অর্থের দ্যোতনাময় উপস্থাপনা বা নিবেদন বা উপহার - যাই নাম দেওয়া যাক, আর সে সেটা রাখে তার সেই প্রথাসিদ্ধ পন্থার মোড়কে, তার শিল্পাচার। আমরা নাম দিই স্টাইল। আর এইখানেই এটা একটু কমপ্লিকেটেড আর দুর্বোদ্ধ হয়ে যায় সময়ে সময়ে। এই চিন্তাশীল  অর্থবোধ সাধারনত সেই ডারউইনিয় প্রসেস অফ সিলেক্সান আর রিজেক্সানের মধ্যে দিয়ে আসে না বা সেই তত্ত্বের অমোঘতার শেকলে বাঁধা নয়। তা যদি হত তাহলে যে এক্সিস্টেন্সিয়াল ডোমেন এর অবধারন বা বোধের থেকে সে তার জৈবনিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে সামাজিক জীব হিসেবে ইভল্ভ করে সেই ইভল্ভ করার প্রবৃত্তি টা থাকা স্বাভাবিক ছিল। চিন্তাশীলতার ইভল্ভ করার কথা।  যেখানে করে সেখানে সব কিছুকে নিয়ে সব কিছু সত্ত্বেও সে চর্চা জীবনকে ছুঁতে চায়, জয়গানের কথা বলছি না, ছুঁয়ে থাকার কথা বলছি।     আর যেখানে ইভল্ভ করে না সেখানে শুধুই চিন্তা শুধুই আশ্লেষ শুধুই উদ্বেগ শুধুই তার মাঝে নিরলম্ব অবস্থান। 

কথা হচ্ছে তাহলে এর পারপাস টা কি? শধু আমার অর্থেই আমার জীবন কোথায় দাঁড়াল? আদৌ দাঁড়াল কি? অনেক প্রশ্ন সেখানে ভীড় করে। আমি আমার মত করে একটা উত্তর পেয়েছি। এখানে দর্শন মানে চিন্তাশীলতা আমি'ময় হয়েছে এতটাই যে আমিই চার্বাক আর জীবন প্রায় নির্বাক শুধু তার অ্যানক্সাইটির রুপের দায়ভাগের  অস্তিত্ব টুকু টিকে আছে। শিল্পচর্চা শিল্পবোধ শিল্পচর্যা প্রতিষ্ঠিত হয়, জীবন নয়। এবং যে যুক্তি এর সপক্ষে দেওয়া হয় বা যে কথা বলা হয় সেই সুত্রে তা হল - জীবন তো অনেকটাই অর্থহীন তাহলে সে প্রতিষ্ঠিত হয় কি করে! বা তাকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় কি করে। আর তাই উঠে আসে শুধু রুপবিন্যাসের কথকথা। সে কথকথাই বা কতটা জোরালো প্রশ্ন থেকেই যায়!

আমি রুপে তোমায় ভোলাবনা
ভালোবাসায় ভোলাব
আমি হাত দিয়ে দ্বার খুলবনা গো
গান গেয়ে ...

রূপ গুণ নয়, তাই তো শব্দ দুইখান  - রূপ আর গুণ। তো গুণ যেখানে নেই সেখানে ভুলতে হয় রুপে ভোলো,  আর না ভুললে তফাৎ যাও, তোমার গোত্র আলাদা,  চিন্তাশীলতায়  অর্থ খোঁজার গোত্র।  প্রবচন - "অধিকাংশ রুপসীর হাঁসির শোভা মাংশপেশীর কৃতিত্ব, তার হৃদয়ের কৃতিত্ব নয়"... মস্তিস্কের মাংসপেশীর। হৃদয়ে হৃদয় নেই হৃদপিণ্ডে হৃদরোগ জবর দখলী - বিনিময়ে আমি শুধু কিছু তাপ দিতে পারি যা কিনা জ্বরের বিকার - যা দেখছ আমায় সময় দিয়েছে  আমার কি করার ছিল। সত্যিই তো - 

আমি মরালিস্ট নই তাই মন্দ ভালোর  বিচার করবো না । আমি ভলতেয়ার নই তাই ঠিক ভুলের পর্যালোচনার হিম্মত রাখি না। সুন্দর অসুন্দর নিয়ে কিছুটা মাথা ঘামাই কারন সেটা প্রাকৃত নিয়ম । 

আর তাই হুমায়ুন আজাদের কবিতার মতই বিশ্বাস করে যাব -

তুমিই সৌন্দর্য আজও দুই চোখে (হে জীবন) তোমার ধ্যানেতেই আছি মগ্ন অহর্নিশ
পরিমাপ করে যাই অনন্ত দ্রাক্ষার উৎস ঢালতে পার কতখানি বিষ... 

No comments:

Post a Comment