Saturday, March 3, 2012

প্রেতাত্মার প্রান ...

"অনেক দিন আগের কথা, বেনারসের ঘাটে বসে আছি, সেই সময়ের কথাগুলো ভাবলে বেশ রোমাঞ্চ হয়, মানে তখন আমি কলেজে পড়ি। সে সময়ে আমার একটা অভ্যেস ছিল মাঝে মাঝে হঠাৎ হঠাৎ কারুকে কিছু না বলে  আমার ইচ্ছে গুলোর সাথে ইলোপ করা। তার মানে এই নয় যে একেবারে নিরুদ্দেশ হয়ে যেতাম, কারন জানতাম যে তাহলে বাবা ইলোপ করার ইচ্ছের ঘরে তালা মেরে দেবে, তাই যোগাযোগ রাখতাম। সে সময়ে যোগাযোগ রাখার এত সুবিধা ছিল না, মোবাইলের নাম কেউ শোনে নি, এস টি ডি' ও হত না, ট্রাঙ্ক কল বুক করে টেলিফোনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত, অনেক সময়ে সেটা ম্যাচিউর করত না, তাই বেস্ট ভরসা ছিল টেলিগ্রাম। পোষ্টাপিসে গিয়ে ফর্ম ভরো আর পয়সা দাও, তার বাবু খট খটা খট টক টকা টক তারের বাদ্যি বাজিয়ে খবর পাঠিয়ে দেবেন, তো সেবারও খবর টবর দিয়ে নিশ্চিন্ত আছি। দশাশ্বমেধ ঘাটের সন্ধ্যা, লোকে প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাসাচ্ছে, এধারে গুটিকয় দেহ দাউ দাউ করে জ্বলছে..." গেলাসের মৌতাতে আড্ডা টা বেশ জমিয়ে তুলেছিল অনির্বাণ, হঠাৎ আমার মনে হল আমিও তো এরকমই নিরুদ্দেশ হতাম, তবে সেটা অনেক পরে, মানে চাকরি করি তখন, সাবালক, বিয়ে থা করিনি, একটা রয়াল এনফিল্ড কিনেছি। আশির মধ্য ভাগের কথা, রাজীব গান্ধীর দৌলতে পাঁচ দিনের সপ্তাহ চালু হয়েছে, তো মাঝে মাঝেই শুক্রবার বিকেলে আফিসের পর শিবাজির সাথে নিরুদ্দেশে চলে যাই, সেরকমই একবার সোমবার ছুটি ছিল কেটে পড়েছি। সোমবার সন্ধেতে ফিরে দেখি মেসে তালা, কি আর করা একটা বোতল এনে আমি আর শিবাজি বসে পড়লাম, আড্ডা মারতে মারতে কখন দুজনেই মাটিতেই ঘুমিয়ে পড়েছি, ভোর রাত্রে আমাদের রক্ষক অন্নদাতা ধনঞ্জয় ফিরল দেশ থেকে, বুঝলাম কিন্তু উঠিনি, তারপর ঘুমের ঘোর কাটল যখন শুনতে পেলাম নভেন্দু'দা জিজ্ঞেস করছে ধনঞ্জয় কে "ওরা কখন ফিরল" - তাতে তার উত্তর ছিল "ওরা তো ফেরেনি"।
পরে সে কথাটা নিয়ে আমাদের সে কি হাঁসা হাঁসি, সত্যি তো নেশার ঘর থেকে আমরা তো তখনো ফিরিনি।
তবে কথাটা ঠিক ওই ভাবে বলেনি ও। ধনঞ্জয় বৃহস্পতিবার বাড়ি গেছিলো, ফিরেছে মঙ্গলবার ভোরে, ও জানেই না আমরা এ কদিন ছিলাম না, তাই ও বলেছে আমরা তো যাই নি কোথাও, ফিরব মানে? তারপর নভেন্দু'দা বলেছিল তোমাদের খোঁজে আমরা প্রায় পুলিসে খবর দিচ্ছিলাম।
খেয়াল হল অনির্বাণ তখনো তার গল্প বলে চলেছে, নিজেকে কিরকম প্রেতাত্মার মত মনে হল, অতীতে ডুবে থাকা বর্তমান ছেড়ে - মৌতাতে আবার ডুবলাম

No comments:

Post a Comment