বশিষ্ঠ অপেক্ষায় অক্লান্ত যুগ জিজ্ঞাসাভুলে গেছে পাশা খেলা...ভুলে গেছে বিবস্ত্রা দ্রৌপদী...সময় এখন তাই ধিকৄত নির্বাসনে আছে।
বশিষ্ঠ না দ্বৈপায়ন...কে যেন প্রশ্ন তুলল!
একটা ছোটো গল্প আছে - বলি তাহলে - একবার রাজর্ষি নিমি তার যজ্ঞের পুরোহিত হওয়ার জন্য বশিষ্ঠ কে অনুরোধ করতে এলেন, তো তখন আলরেডি বশিষ্ঠ এনগেজড ইন্দ্রের যজ্ঞে। ফলে নিমির রাজসূয় যজ্ঞে পৌরোহিত্যের জন্য সময় চাইলেন, নিমি কে অপেক্ষা করতে বললেন, হাতের কাজ টা সেরে নিয়ে যাবেন বলে - মানে ইন্দ্রের যজ্ঞ সেরে। তো তখনকার দিনে তো ব্রাহ্মণত্ব আর ক্ষত্রিয়ত্ব নিয়ে একটা ব্যাপার ছিলই - কে বড় ইত্যাদি। তো বশিষ্ঠ ভাবলেন আমি অপেক্ষা করতে বলেছি, যাবে কই, অপেক্ষা করবে মানে নিমির যজ্ঞ বশিষ্ঠের জন্য অপেক্ষা করবে।
ইন্দ্রের যজ্ঞ সেরে ফিরে এসে দেখলেন নিমি অনেক আগেই চলে গেছে, আর শুধু তাই নয়, গৌতম ঋষি কে দিয়ে যজ্ঞ করিয়েও ফেলেছে - নাকি চলছে। রাগে অগ্নিশর্মা ব্যাস অভিশাপ, নিমি কে বললেন যে চেতনার ভ্রষ্ট উপরোধে তুমি ব্রাহ্মণ কে অপমান করলে, সেই চেতনাই তোমার চলে যাবে, তুমি জড়ভরত হয়ে যাবে। তো নিমিও তো যজ্ঞ টজ্ঞ করে ব্রাহ্মণ আর ভগবান ভজিয়ে কিছু পুণ্য সঞ্চয় করেছিলেন, জড়ভরত হবার আগে দিলেন পাল্টা অভিশাপ - যে উন্মাদ রাগের বসে তুমি এ কাণ্ড করলে সে তো ঋষি বা মুনির কাজ নয়, সেটা বশিষ্ঠ রুপী মানুষটার কাজ - সে শরীরটার কাণ্ড, আর তাই তুমিও শরীর বিহীন আত্মা হয়ে যাবে। ব্যাস তারপর দুজনেরিই ঝামেলি'র শুরু - একজন জড়ভরত আর একজন কায়াহীন ছায়া।
এদিকে কুকম্ম করে ফেলেই তো বশিষ্ঠ বুঝেছে ঠেলাটা, ফলে দৌরদৌরি শুরু ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর কাছে দরবার - দেহ দাও। ব্রহ্মা আর বিষ্ণুও ধড়িবাজ - এত সহজে, দাঁড়াও। শেষমেশ নাছোর বশিষ্ঠের কাছে হার মেনে দুজনেই বলল ঠিক আছে আপনি গিয়ে অমুক জায়গায় একটা কুন্ড বানান তার নাম হবে বশিষ্ঠ কুন্ড। আমরা এসে তাতে জল ভরব, আর সে জলে চান সারলেই কেল্লা ফতে - শরীর আসবে। বশিষ্ঠ তো জায়গামত গিয়ে - আত্মা হলে হবে কি তেজ তো আছে, সেই তেজবলেই কুন্ড বানাল, ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর দেখা নেই, বশিষ্ঠ অপেক্ষায় আছে। বেশি ট্যান্ডাই ম্যান্ডাই ও করতে পারছেনা, শরীর বলে কথা। সেই অনন্ত অপেক্ষার পর ওঁরা দুজন এলেন, তারপর তো গল্প শেষ মানে বাদ বাকি হল মায় শরীর লাভ অব্দি।
যুগ জিজ্ঞাসা গুলোও ওই বশিষ্ঠের তেজের মতই তীব্র, তীক্ষ্ণ কিন্তু কায়াহীন আর তাদের অক্লান্ত ব্যাস্ততা সেই কায়ার খোঁজেই। নিজের শরীর নিয়ে এতো আত্মলীন হয়ে আছে সেই জিজ্ঞাসা যে বাস্তবের সাথে যোগাযোগ নেই, আর তাই সময় ..।
কবিতার কথাতেই বলি সেই কায়াসন্ধানই তো চলছে - জিজ্ঞাসার নামে এক একটা বশিষ্ঠ অপেক্ষা - কায়া পাওয়ার অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে - আজও এখনও - তীব্র সে জিজ্ঞাসা তীক্ষ্ণ বটে কিন্তু ...
শুধু নিঃশ্বাসের চেতনায় চিন্ময় হলেও মুর্তিগুলো মাটিহীন
মাটি চাই সে মাটির রূপ চাই টান চাই চোখের আদল চাই
যদিও অরন্য ঝড় হা হা করে হেসে ওঠে পাগলের মত
সে অরন্য মাটিতে প্রথিত হোক - "Avatar" অরন্য নয়
শুধু ছেঁড়া ফুর্তির মত উলঙ্গ উল্লাস নয়
দ্রাক্ষারস মদ মাংস হাহাকার হা হা হাঁসি
সভ্যতার রক্তস্নানে মেতে উঠে রক্তধারা পান হোক
অন্ধকার হামাগুড়ি অপেক্ষার ঈগল শুন্যতায় ভেসে থাক
কামনা ছড়ানো থাক ভুজঙ্গ নিঃশ্বাসে
No comments:
Post a Comment