Wednesday, May 22, 2013

কয়েকটি কবিতা

অকিঞ্চিৎ
......................................................

কোথাও যেও না
কোন পরবাস খুঁজে নদী পার হয়ে এলে
শরীর জুড়াবে বলে
এই বৃষ্টি প্রলাপের সাথে
মেঘের কোমর ধরে 
মাটি কান পেতে ছিল তাই 

বোধ তুমি বৃক্ষ হয়ে এ মাটিতে ঝুরিনামা বট হয়ে যেও
সমস্ত নির্বোধ স্বপ্ন গ্লানির ঠোকর পার করে
আমি নির্বাণ হতে চাই
বোধিসত্ত্ব হতে নয়

সুজাতা আসবে বলে


#################


সময়ের ফেউ ঘু ঘু ডাকা গলির নির্জনে হাঁক পাড়ে
বেছে নাও তোমার বিষাদ দেখ কত সব রং
একমুঠো যন্ত্রণার দামে

জাতহীন মাতালের শ্লথ হাতে
অসহ্য নেশার ঘোর কপর্দক শেষ
চেপে ধরা কাচের গেলাস নয় সাপের ছোবল
জলের আয়নায় ঝুঁকে চেয়ে থাকা ছেঁড়া শাড়ি রুক্ষ চুলে জটা
তারপর ডুব গুব বুদ বুদ গুলো ভেঙে গেলে জল আবার পিশাচ নির্জন
পাকুড়ের ডালে সেই পুকুরের ধারে কিছু অবেলার ম্লান হয়ে আসা পাখি-মুখ
ডানা ঝাপড়ায়
আসন্নসম্ভবা ছিল পেটে ছিল উপোষী সন্তান

যাও যাও ফেরিওয়ালা
বুকের মধ্যে যত নামি
রং হীন জ্বালার পাহাড়

আবার আসিব ফিরে
এ রকম কোন কথা না দিয়েই অনায়াস
স্বপ্নগুলো অর্থহীন
বিকলাঙ্গ ভিক্ষুকের মত যাকেই সামনে পায়
দু পায়ে জড়িয়ে ধরে

ভুলে যাওয়া ভাল
স্বপন আয়নার বুকে আধখানা উন্মাদ হ্যামলেট আর ওথেলো 'র ছায়া
বাকি আধখানা সেই বিকলাঙ্গ চেনা মুখ

###############################

কবিতা তোমাকে
............................................................

দায়বদ্ধতার নেমপ্লেট ঝোলানো দিগন্তখিলান
একটা ব্যাকুল নহবত
বুকের বাঁ দিকে অবিরাম খোঁচানির ঘা
দৈনিক পানাহার বাবুগিরির তুমুল আড্ডায়
তুমিসদৃশ সব না পাওয়া আশের চিঠি পৌঁছে দেয়
মনবারন ডাকপিয়ন -
দু দশটা নীল পদ্ম বৃষ্টিমেয়ে বলেছিলাম এনে দেব
একসাথে জোছনা দেখার কথা ছিল

অঙ্গীকার তুমি শুধু অপেক্ষার উপচ্ছায়া
অধরা রমণী নয়
অচিন নারীর মত অধরায় মিশে রয়ে গেলে

পুড়ে যাওয়া নীহারিকার আগুন
আনিঃশ্বাস দহন বেলার গল্পে
সম্ভ্রান্ত বিনাশ নয়
প্রদাহের জ্বালা তোকে দিয়ে যাব পিশাচীনি
তোকেই আহুতি দিয়ে যজ্ঞের আগুনে

Thursday, March 21, 2013

স্বর কেন নিনাদ হল না


#
শব্দের দালানকোঠা
দর্পের কিছুটা বাকিটুকু
অন্ধের অন্ধকার জ্যোৎস্নার জলছবি
ফাঁকিবাজ ভুবন মিস্তিরির হাতে 
কলামবিহীন সব শাস্বত নির্মাণ

##
আঙিনায় বানভাসি তীব্র  জোয়ারের টান
ডুবে থাকা অন্তরীপ হাহাকার
বাহিত রক্তের লবনে ওঠা  শব্দের কলরোল
দিকচিহ্নহীন  এক মা ভুমের অনিমা লঘিমা জুড়ে জ্যাসনের সাফিনায় ভেসে ভেসে
ভেড়ার সোনাল লোম  লুব্ধক নক্ষত্রের আলো
ধরে ফেলে চোখের পাতায় 
একজন মানুষ শব্দের নিগড়ে শুধু
অস্তিত্বের জমিন বদলায় -

###
তথাগত তুমি কি বোঝোনি
পরমান্ন নিবেদনে শুধু সত্য ভিক্ষা নয়
আরও কিছু যাঞ্চা ছিল প্রীতিময় ...
সেই শাল্মলীতলে...

####
কবিতা তোমাকে আমি শব্দ দিয়ে কোনদিন চাইনি সাজাতে
তবু কেন কবিতার ঈশ্বর কবুতরী
বকম্ বকম্ থেকে গেল 

#####
সুনীল কি ঠিক বুঝেছিল -
কথা দিয়ে কথা কেন উদাসীন সঙ্গম শেখালনা
শব্দের শরীরে শুধু নেশার আমেজ
বেবুশ্যে নিম  হিম ঘোরের উত্তাপ  

######
তবু কিছু কথা থাকে
তিমি'র গন্ধের মত কিছু কিছু স্মৃতিগন্ধি শব্দঘ্রান
এখানে যেমন চার্বাক ডালে ঝুলে আছে -
যাও শব্দ উকি মেরে যাও চলে যাও
এখানে নাহয় প্রতিরাতে
বেবুশ্যে বাসর সাজাবে...

কালবৈশাখী


কালবৈশাখীর মেঘগুলো নেচে নেচে এসে আছড়াল তালগাছগুলোর মাথা আছারি পিছারি, কতকাল ডেকে ডেকে হায়রান
এতদিনে কাছে পেয়ে দারুন মাতাল যেন মাল খেয়ে আদাখেলে, ঝর্নার পারা অঝোরে বৃষ্টির জল দেখতে দেখতে থৈ থৈ পাড়ার পুকুর। রাস্তাঘাট চায়ের দোকান শুনশান, শুধু ঝড় বৃষ্টির কঞ্চের্তোঁ । একটা দিগন্তচেরা বিদ্যুৎের ফালা তীক্ষ্ণ ভালার মত এ ফোঁড় ও ফোঁড় করে দিল দুরের আকাশ নিঃশব্দে ।
চায়ের দোকানের ছেলেটা ঢাকার প্লাস্টিক নিয়ে দারুন বিব্রত , বাতাস সামলায় তো বৃষ্টির খিল খিলে উল্লাস আর
বৃষ্টি আটকায় তো বাতাস উড়িয়ে দেয় সমস্ত আড়াল
যেন উন্মত্ত প্রেমের প্যাসনে সমস্ত খুলে নিয়ে নগ্ন করে দেবে , ছেলেটা নাজেহাল - কাকে সামলায়! আমি দেখছি আর ভাবছি সুরঙ্গমা এরকমই হঠাৎ হঠাৎ এসে আছড়াত আর তার পর - কালবৈশাখী বেশিক্ষণ থাকেনা, পুকুর ভরাট দু চারটে ভাঙা ডাল এক আধটা বজ্রাহত তালগাছ এ সব ছাপিয়ে গিয়ে ছেড়ে গেল সিক্ত এক রেশ। জীবন ভিজেছে বরাবর সেই অট্টরোলে। আমি তো মরণ খুঁজে জীবনের কাছে শুধু ঋণ করে গেছি, নতজানু করে রাখে বুকের কবরে তাই অম্লান কবরী গন্ধ ।
কালবৈশাখী এলে তাই সুরঙ্গমা তুমি ফিরে আস আমার দর্শনে...

আবোল কিন্তু তাবোল নয়



বড় বেশী বোঝা টানার মানে বুঝি এই বোঝা টানার একটা স্বতসিদ্ধ দায় এসে পড়েছে। জ্ঞ্যানী হজরত না বোকা বেড়াল কিম্বা পাঁঠা। শালার বিধাতা মাথাটা ঘাড়ের ওপর দিল আর জগতসোমসার পুড়কি দিল ওটায় ব্রেন আছে। আমিও সে আঁচে গলে গেলুম। আহা কি সুখ সেই আলত ক্যাডবেরির সুখ। কিন্তু নিমজ্জিত সুখের অসুখে যেন একটা অলিখিত শাসানি রয়েছে - লাইনে এসো না হলে দানা পানি বন্দ।

হায়রে পিঞ্জিরা, রঙিলা স্বপন দিলি, পরানে আবির ঢালি, তারপর - বৃদ্ধ গ্যালিলিও পিসার মন্দিরে - সুখ আর অসুখ বকের পালকের মত ভেসে আছে, পাথরটা শুধু চিরকাল আগে আছড়ে পড়ে মাটির ওপর, মাধ্যাকর্ষণ, আর সামাজিক অভিকর্ষ - দুটোই বেশ বলশালী বস্তু।

একটা ক্লান্ত উড়ুক্কু বাইন লাফিয়ে উঠে দেখেছিল নদীটা সরে গেছে, ব্যাস নদী চাই নদী দাও, কান্নাকাটি। একটা গরিব মুচি ছেঁড়া নদীটার ক্যাঁতা সেলাই করে এনে বলল নাও ধর এইবার লাপাও যত খুশী। বাইন দেখে সে নদীতে কি ঢেউ কি ঢেউ, ব্যাস, লাফাতেই গা ভর্তি শ্যাওলা।

খরস্রোতা আদিম কোথায় তুমি, বাইনের ভেজা গা মুছতে গামছা চাই, নদীটা এগিয়ে দিল ভেজা শাড়ীর পাড়। সে সিক্ত বসনে ছিল কণ্ঠস্বর - আহ্লাদের।

গাঙ্গের নাগরী রাঙা ঠোঁট পান পাত্রে পিচ ফেলিয়া কয় বেভুলা নাই লজ্জা আমি, আমারে কাঁদাও, এক্ষুনি এত্তা জঞ্জাল বলে নাচ ধরব, তকন ঠ্যালাটি টের পাবে। যাও চলে যাও, শুদু ইসসে হলে গোপন চুমি দেবখন। আমিও চিরকুটের প্রেমের আশায় বাধিনু খেলাঘর, কিচেন আর ঘরের কার্নিশে অনেক আগাছা জন্মাল, আমি ঘোরে আছি, কখন গোপন চুমি আসবে।

একদিন দেখে নেব সব কিছু
খুঁড়ে নেব পর্দানশীন সব চুপকথা রুপকথাদের মাঠ
দেখে নেব সে আকাশে কোন মাতোয়ারা রাত্রিবাসের গন্ধ আছে কিনা
দেখে নেব বুঝে নেব মৌনতার শব্দ কোন স্তরে নিয়ে যেতে পারে

বিবিধ ...................................................



প্রাচীন ভারত। বিন্ধ্যারণ্য । মসীকৃষ্ণ অন্ধকার । অন্ধনালার প্রপাতে জল ঝরিবার আওয়াজ নৈস্তব্ধ কে ঝিঙ্গুরের একটানা ডাকের মত ভরিয়া রাখিয়াছে। সবার অতীত রহিয়াছে । শুধু বিশেষ হইলেই তাহা ইতিহাস হইয়া ওঠে। অতীত নাই সে অর্থে, তাই ভবিষ্যৎ কে কিঞ্চিত ইতিহাস গোত্রীয় করিবার অভীপ্সায় বাহির হইয়াছি, কাহিনী চাই, নচেৎ ইতিহাস হয় না। অরন্য ভ্রমন নহে, বিন্ধ্যারণ্যে রবারের বাগান - এতদিন মফঃস্বলে রুগী দেখিয়া বেরাইতাম, পরিজনহীন অতএব বৈকালিক চায়ের নিমন্ত্রন অব্যাক্ত ইচ্ছার ইশারা হইয়া রাত্রিকালীন ডিনার অবধি মাঝে মাঝেই গড়াইতে লাগিতেছিল, এবং ছাঁদনাতলা অভিমুখী ব্যাস্ততার উপক্রম দেখাইতেই পলাইয়াছি। রবার বাগানে ডাক্তারবাবু সে এক ভয়ঙ্কর সমীহ আদায়করা প্রানী, বিশেষ বাগানের শ্রমিক মজুরদের কাছে। সঠিক জানা হয় নাই, প্রায় তিরিশ হাজার গাছ, প্রতিদিন তিন চার হাজার কে জি রবারের কষ সংগ্রহ করা হয়। বিরাট বাগান, ততোধিক মজুর শ্রমিক। সন্ধ্যার অন্ধকার নামিবার পর খবর আসিয়াছিল রামদীনের পরিবারের লেবার উঠিয়াছে। যাইতেছিলাম পুবের ধাওর অভিমুখে, সাইকেলের বাতি অন্ধকার খদ্যোতের ন্যায় বীর বিক্রমে নিভাইতেছিল। আর আমি চলিয়াছিলাম প্রথম কান্নার উন্মেষের সাক্ষী ও কারিগর হইতে । এমতাবস্থায় হঠাৎ কানে আসিল পশ্চাদ্ধাবনের বড় বড় নিঃশ্বাসের শব্দ ও একটি টর্চের আলো মাঝে মাঝেই তির্যক ভাবে নিক্ষেপিত হইতেছে। দাঁড়াইলাম সাইকেল হইতে নামিয়া। অপেক্ষা করিতে হইল না। কাছে আসিতে চিনিলাম ঝারিলাল। কহিলাম - কি ঝারিলাল কি হয়েছে, হাঁপাচ্ছ কেন? একটু বাতাস টানিয়া ঝারিলাল কহিল - দাগদর বাবু জলদী চলেন, রামাই কে করৈত কাটল বা - হাম রসসি বাধ কে আপকো খোঁজনে নিক্লা - শুনা আপ রামদীন কে জরু ... রামাই পশ্চিমের ধাওরে থাকে, পুবে জীবন পশ্চিমে মৃত্যু - ইহার পর ডাগদার কি করিয়াছিল ...

হায় অরফিউস একদিকে জীবন আর অন্যদিকে মৃত্যুর সেরিনেড আর বিহ্বল ডাক্তার পথ উলটিয়ে খোঁজে কোনদিকে সে যাবে।

########

নষ্টদের নাকি পথ হারানোর ইজারা থাকে। "কোন রসে কোন রতির খেলা... জানলেই রসের মরম রসিক তারে যায় কি বলা" - এ দুনিয়াটা তো জ্যামিতিক তিন মাত্রায় বাঁধা আর চতুর্থ মাত্রায় তো সেই অবিসম্বাদি নেব্যুলাস আইটেম টা - সময়। রসের কাণ্ডারি হবার চেষ্টায় সময় দুর দার ছোটে আবার সময়ের কাণ্ডারি হতে গিয়ে রসের ভিয়েন এ টান পড়ে - তখন পথ অন্য তিনটে ডাইমেন্সানে ছোটাছুটি করে - তারপর ডিসপ্লে ডাইমেন্সন নিয়ে মাতামাতি ! না কি ঘনত্বের মাপ খোঁজে কুচকে যাওয়া অনুভুতির আস্তরন? যোজন যোজন জুড়ে নবী হওয়ার সাধ এক বাঁও দুই বাঁও এ এ না সুর ধরে।

রশি তো বেশীরভাগ এক দুই তেই তল ছোঁয়। রসের মরম - আগুন বুঝল কবে দহনের জ্বালা। শুধু বিব্রত মানুষগুলো ভাবে সবকিছু এখনও শেষ হয়ে যায় নি। তারপরেই শুরু কথার পাতাবাহারের প্লাবনশুদ্ধি।

########

খুব সংক্ষিপ্ত আলিঙ্গন। আঙুল আগে ছুঁয়েছিল তোমার দামী পোশাক। তবু ওইটুকুর মধ্যেই দামী সাবান আর তুষার পাতের মত বাতাসে ভেসে থাকা সুগন্ধ নাকে আর গায়ে জড়িয়ে গেল। পেজা তুলোর মত নিস্তব্ধতায় ভেসে রইল অনেকক্ষণ । নিজের অ্যাম্বিয়েন্ট টেম্পারেচার মাপতে মাপতে টের পেলাম বাইরেটা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। প্রত্যেকটা অনুভুতির একটা করে থ্যারম্যাল ডিজাইন থাকে। সেটা চারিয়ে থাকে ভেতরে বাইরে যতক্ষন সেই অনুভুতিটা কব্জায় রাখে।

Saturday, September 15, 2012

বশিষ্ঠের অপেক্ষা


বশিষ্ঠ অপেক্ষায় অক্লান্ত যুগ জিজ্ঞাসাভুলে গেছে পাশা খেলা...ভুলে গেছে বিবস্ত্রা দ্রৌপদী...সময় এখন তাই ধিকৄত নির্বাসনে আছে।

 বশিষ্ঠ না দ্বৈপায়ন...কে যেন  প্রশ্ন তুলল!

একটা ছোটো গল্প আছে - বলি তাহলে - একবার রাজর্ষি নিমি তার যজ্ঞের পুরোহিত হওয়ার জন্য বশিষ্ঠ কে অনুরোধ করতে এলেন, তো তখন আলরেডি বশিষ্ঠ এনগেজড ইন্দ্রের যজ্ঞে। ফলে নিমির রাজসূয় যজ্ঞে পৌরোহিত্যের জন্য সময় চাইলেন, নিমি কে অপেক্ষা করতে বললেন, হাতের কাজ টা সেরে নিয়ে যাবেন বলে - মানে ইন্দ্রের যজ্ঞ সেরে। তো তখনকার দিনে তো ব্রাহ্মণত্ব আর ক্ষত্রিয়ত্ব নিয়ে একটা ব্যাপার ছিলই - কে বড় ইত্যাদি। তো বশিষ্ঠ ভাবলেন আমি অপেক্ষা করতে বলেছি, যাবে কই, অপেক্ষা করবে মানে নিমির যজ্ঞ বশিষ্ঠের জন্য অপেক্ষা করবে।

ইন্দ্রের যজ্ঞ সেরে ফিরে এসে দেখলেন নিমি অনেক আগেই চলে গেছে, আর শুধু তাই নয়, গৌতম ঋষি কে দিয়ে যজ্ঞ করিয়েও ফেলেছে - নাকি চলছে। রাগে অগ্নিশর্মা ব্যাস অভিশাপ, নিমি কে বললেন যে চেতনার ভ্রষ্ট উপরোধে তুমি ব্রাহ্মণ কে অপমান করলে, সেই চেতনাই তোমার চলে যাবে, তুমি জড়ভরত হয়ে যাবে। তো নিমিও তো যজ্ঞ টজ্ঞ করে ব্রাহ্মণ আর ভগবান ভজিয়ে কিছু পুণ্য সঞ্চয় করেছিলেন, জড়ভরত হবার আগে দিলেন পাল্টা অভিশাপ - যে উন্মাদ রাগের বসে তুমি এ কাণ্ড করলে সে তো ঋষি বা মুনির কাজ নয়, সেটা বশিষ্ঠ রুপী মানুষটার কাজ - সে শরীরটার কাণ্ড, আর তাই তুমিও শরীর বিহীন আত্মা হয়ে যাবে। ব্যাস তারপর দুজনেরিই ঝামেলি'র শুরু -   একজন জড়ভরত আর একজন কায়াহীন ছায়া।

এদিকে কুকম্ম করে ফেলেই তো বশিষ্ঠ বুঝেছে ঠেলাটা, ফলে দৌরদৌরি শুরু ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর কাছে দরবার - দেহ দাও। ব্রহ্মা আর বিষ্ণুও ধড়িবাজ - এত সহজে,  দাঁড়াও। শেষমেশ নাছোর বশিষ্ঠের কাছে হার মেনে দুজনেই বলল ঠিক আছে আপনি গিয়ে অমুক জায়গায় একটা কুন্ড বানান তার নাম হবে বশিষ্ঠ কুন্ড।  আমরা এসে তাতে জল ভরব, আর সে জলে চান সারলেই কেল্লা ফতে - শরীর আসবে। বশিষ্ঠ তো জায়গামত গিয়ে - আত্মা হলে হবে কি তেজ তো আছে, সেই তেজবলেই কুন্ড বানাল, ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর দেখা নেই, বশিষ্ঠ অপেক্ষায় আছে। বেশি ট্যান্ডাই ম্যান্ডাই ও করতে পারছেনা, শরীর বলে কথা। সেই অনন্ত অপেক্ষার পর ওঁরা দুজন এলেন, তারপর তো গল্প শেষ মানে বাদ বাকি হল মায় শরীর লাভ অব্দি।

যুগ জিজ্ঞাসা গুলোও ওই বশিষ্ঠের তেজের মতই তীব্র, তীক্ষ্ণ কিন্তু কায়াহীন আর তাদের অক্লান্ত ব্যাস্ততা সেই কায়ার খোঁজেই। নিজের শরীর নিয়ে এতো আত্মলীন হয়ে আছে সেই জিজ্ঞাসা যে বাস্তবের সাথে যোগাযোগ নেই, আর তাই সময় ..।

কবিতার কথাতেই বলি সেই কায়াসন্ধানই  তো চলছে -  জিজ্ঞাসার নামে এক একটা বশিষ্ঠ অপেক্ষা - কায়া পাওয়ার অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে - আজও এখনও -  তীব্র সে জিজ্ঞাসা তীক্ষ্ণ বটে কিন্তু ...

শুধু নিঃশ্বাসের চেতনায় চিন্ময় হলেও মুর্তিগুলো মাটিহীন 
মাটি চাই সে মাটির রূপ চাই টান চাই চোখের আদল চাই 
যদিও অরন্য ঝড় হা হা করে হেসে ওঠে পাগলের মত 
সে অরন্য মাটিতে প্রথিত হোক - "Avatar"  অরন্য নয়
শুধু ছেঁড়া ফুর্তির মত উলঙ্গ উল্লাস নয়
দ্রাক্ষারস মদ মাংস হাহাকার হা হা হাঁসি 
সভ্যতার রক্তস্নানে মেতে উঠে রক্তধারা পান হোক
অন্ধকার হামাগুড়ি অপেক্ষার ঈগল শুন্যতায় ভেসে থাক
কামনা ছড়ানো থাক ভুজঙ্গ নিঃশ্বাসে

অর্থ - চিন্তা - সহজপ্রকৃতি


কিছু লিখছিলাম একটা পাতায় - তো লিখতে লিখতেই আরও কিছু কথা মাথায় এল - নাকি ছিল, ভেসে উঠল। সে ছাই যেটাই হোক আরও কিছু ছাই পাঁশ এলই যখন ছাঁকনি দিয়ে তুলে রাখি -

এক্সিস্টেন্সিয়ালিস্ম আজকের যুগের নিরিখে যে ছাপটুকু রেখে গেছে সেটা একাদিক্রমে ঐতিহাসিক সুত্রেই ভেবে চলেছে একটু ভিন্ন আঙ্গিকের রঙ নিয়ে  যে লাইফ ইস মিনিংলেস, ইউনিভারস ইস পারপাসলেশ আর সোসাইটি বা সময় এর কথাও বলাই বাহুল্য ...সমাপতনে  শেষ যখন আসে সেই শেষ ততটাই অর্থপূর্ণ বা অর্থহীন  যতটা এই জীবন ছিল। দারুন নাকি নিদারুন। মজা এইটাই যে যতটা বোল্ড বা কারেজিয়াস হোক না কেন অ্যাজ এ প্রেসেন্টেসান এই বোধ টা -  it does not seem to provide succor either  to the  one who is a sufferer or to the mind that has presented it. Then why  present such things. 

আর এইখানেই এসে পড়ে এই অর্থ খোঁজার ধরন বা পদ্ধতির প্রসঙ্গ । এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে জীবনের ইমপ্লিসিট অর্থ কখনই এরকম নয়। সেটা অনেক বেশী ইন্সটিঙ্কটিভ আর জীবনের অন্যান্য দায়ের সঙ্গে যুক্ত - যেখানে যাপন জড়িয়ে আছে, একদিকে নিড আর অন্যদিকে ডিসায়ার, একদিকে প্রয়োজন যা কিছু আবশ্যক আর অন্যদিকে স্পৃহা অভিলাষ আকাঙ্খা কামনা আর তার টানাপোড়েনের থেকে সেই অর্থের পশ্চাদ্ধাবন । ওইখানে সে বাঁচে, সে হয়ে ওঠে সেই এক সামাজিক জীব যে পারিপার্শ্বিকের মধ্যে ক্রমাগত নিজেকে ফিট আরও ফিট করে চলেছে তার জীবনের ইন্সটিঙ্কটিভ অর্থ খোঁজার ছন্দে।

কিন্তু সে তো সবটাই সেই সামাজিক জীব নয়, কিছুটা হলেও নিজেকে নিয়ে নিজের জন্য যাকে বলে সেই ডারউইনিয় প্রোটোপ্লাস্মিক এন্টিটি, যে ইভল্ভ করে বা করবার প্রথাসিদ্ধ কতগুলো পন্থায় ব্যাপৃত থাকে। শিল্পাচার। 

সেখানে শুরু রিফ্লেকটিভ মিনিং বা চিন্তাশীল অর্থের দ্যোতনাময় উপস্থাপনা বা নিবেদন বা উপহার - যাই নাম দেওয়া যাক, আর সে সেটা রাখে তার সেই প্রথাসিদ্ধ পন্থার মোড়কে, তার শিল্পাচার। আমরা নাম দিই স্টাইল। আর এইখানেই এটা একটু কমপ্লিকেটেড আর দুর্বোদ্ধ হয়ে যায় সময়ে সময়ে। এই চিন্তাশীল  অর্থবোধ সাধারনত সেই ডারউইনিয় প্রসেস অফ সিলেক্সান আর রিজেক্সানের মধ্যে দিয়ে আসে না বা সেই তত্ত্বের অমোঘতার শেকলে বাঁধা নয়। তা যদি হত তাহলে যে এক্সিস্টেন্সিয়াল ডোমেন এর অবধারন বা বোধের থেকে সে তার জৈবনিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে সামাজিক জীব হিসেবে ইভল্ভ করে সেই ইভল্ভ করার প্রবৃত্তি টা থাকা স্বাভাবিক ছিল। চিন্তাশীলতার ইভল্ভ করার কথা।  যেখানে করে সেখানে সব কিছুকে নিয়ে সব কিছু সত্ত্বেও সে চর্চা জীবনকে ছুঁতে চায়, জয়গানের কথা বলছি না, ছুঁয়ে থাকার কথা বলছি।     আর যেখানে ইভল্ভ করে না সেখানে শুধুই চিন্তা শুধুই আশ্লেষ শুধুই উদ্বেগ শুধুই তার মাঝে নিরলম্ব অবস্থান। 

কথা হচ্ছে তাহলে এর পারপাস টা কি? শধু আমার অর্থেই আমার জীবন কোথায় দাঁড়াল? আদৌ দাঁড়াল কি? অনেক প্রশ্ন সেখানে ভীড় করে। আমি আমার মত করে একটা উত্তর পেয়েছি। এখানে দর্শন মানে চিন্তাশীলতা আমি'ময় হয়েছে এতটাই যে আমিই চার্বাক আর জীবন প্রায় নির্বাক শুধু তার অ্যানক্সাইটির রুপের দায়ভাগের  অস্তিত্ব টুকু টিকে আছে। শিল্পচর্চা শিল্পবোধ শিল্পচর্যা প্রতিষ্ঠিত হয়, জীবন নয়। এবং যে যুক্তি এর সপক্ষে দেওয়া হয় বা যে কথা বলা হয় সেই সুত্রে তা হল - জীবন তো অনেকটাই অর্থহীন তাহলে সে প্রতিষ্ঠিত হয় কি করে! বা তাকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় কি করে। আর তাই উঠে আসে শুধু রুপবিন্যাসের কথকথা। সে কথকথাই বা কতটা জোরালো প্রশ্ন থেকেই যায়!

আমি রুপে তোমায় ভোলাবনা
ভালোবাসায় ভোলাব
আমি হাত দিয়ে দ্বার খুলবনা গো
গান গেয়ে ...

রূপ গুণ নয়, তাই তো শব্দ দুইখান  - রূপ আর গুণ। তো গুণ যেখানে নেই সেখানে ভুলতে হয় রুপে ভোলো,  আর না ভুললে তফাৎ যাও, তোমার গোত্র আলাদা,  চিন্তাশীলতায়  অর্থ খোঁজার গোত্র।  প্রবচন - "অধিকাংশ রুপসীর হাঁসির শোভা মাংশপেশীর কৃতিত্ব, তার হৃদয়ের কৃতিত্ব নয়"... মস্তিস্কের মাংসপেশীর। হৃদয়ে হৃদয় নেই হৃদপিণ্ডে হৃদরোগ জবর দখলী - বিনিময়ে আমি শুধু কিছু তাপ দিতে পারি যা কিনা জ্বরের বিকার - যা দেখছ আমায় সময় দিয়েছে  আমার কি করার ছিল। সত্যিই তো - 

আমি মরালিস্ট নই তাই মন্দ ভালোর  বিচার করবো না । আমি ভলতেয়ার নই তাই ঠিক ভুলের পর্যালোচনার হিম্মত রাখি না। সুন্দর অসুন্দর নিয়ে কিছুটা মাথা ঘামাই কারন সেটা প্রাকৃত নিয়ম । 

আর তাই হুমায়ুন আজাদের কবিতার মতই বিশ্বাস করে যাব -

তুমিই সৌন্দর্য আজও দুই চোখে (হে জীবন) তোমার ধ্যানেতেই আছি মগ্ন অহর্নিশ
পরিমাপ করে যাই অনন্ত দ্রাক্ষার উৎস ঢালতে পার কতখানি বিষ...