Wednesday, May 22, 2013

কয়েকটি কবিতা

অকিঞ্চিৎ
......................................................

কোথাও যেও না
কোন পরবাস খুঁজে নদী পার হয়ে এলে
শরীর জুড়াবে বলে
এই বৃষ্টি প্রলাপের সাথে
মেঘের কোমর ধরে 
মাটি কান পেতে ছিল তাই 

বোধ তুমি বৃক্ষ হয়ে এ মাটিতে ঝুরিনামা বট হয়ে যেও
সমস্ত নির্বোধ স্বপ্ন গ্লানির ঠোকর পার করে
আমি নির্বাণ হতে চাই
বোধিসত্ত্ব হতে নয়

সুজাতা আসবে বলে


#################


সময়ের ফেউ ঘু ঘু ডাকা গলির নির্জনে হাঁক পাড়ে
বেছে নাও তোমার বিষাদ দেখ কত সব রং
একমুঠো যন্ত্রণার দামে

জাতহীন মাতালের শ্লথ হাতে
অসহ্য নেশার ঘোর কপর্দক শেষ
চেপে ধরা কাচের গেলাস নয় সাপের ছোবল
জলের আয়নায় ঝুঁকে চেয়ে থাকা ছেঁড়া শাড়ি রুক্ষ চুলে জটা
তারপর ডুব গুব বুদ বুদ গুলো ভেঙে গেলে জল আবার পিশাচ নির্জন
পাকুড়ের ডালে সেই পুকুরের ধারে কিছু অবেলার ম্লান হয়ে আসা পাখি-মুখ
ডানা ঝাপড়ায়
আসন্নসম্ভবা ছিল পেটে ছিল উপোষী সন্তান

যাও যাও ফেরিওয়ালা
বুকের মধ্যে যত নামি
রং হীন জ্বালার পাহাড়

আবার আসিব ফিরে
এ রকম কোন কথা না দিয়েই অনায়াস
স্বপ্নগুলো অর্থহীন
বিকলাঙ্গ ভিক্ষুকের মত যাকেই সামনে পায়
দু পায়ে জড়িয়ে ধরে

ভুলে যাওয়া ভাল
স্বপন আয়নার বুকে আধখানা উন্মাদ হ্যামলেট আর ওথেলো 'র ছায়া
বাকি আধখানা সেই বিকলাঙ্গ চেনা মুখ

###############################

কবিতা তোমাকে
............................................................

দায়বদ্ধতার নেমপ্লেট ঝোলানো দিগন্তখিলান
একটা ব্যাকুল নহবত
বুকের বাঁ দিকে অবিরাম খোঁচানির ঘা
দৈনিক পানাহার বাবুগিরির তুমুল আড্ডায়
তুমিসদৃশ সব না পাওয়া আশের চিঠি পৌঁছে দেয়
মনবারন ডাকপিয়ন -
দু দশটা নীল পদ্ম বৃষ্টিমেয়ে বলেছিলাম এনে দেব
একসাথে জোছনা দেখার কথা ছিল

অঙ্গীকার তুমি শুধু অপেক্ষার উপচ্ছায়া
অধরা রমণী নয়
অচিন নারীর মত অধরায় মিশে রয়ে গেলে

পুড়ে যাওয়া নীহারিকার আগুন
আনিঃশ্বাস দহন বেলার গল্পে
সম্ভ্রান্ত বিনাশ নয়
প্রদাহের জ্বালা তোকে দিয়ে যাব পিশাচীনি
তোকেই আহুতি দিয়ে যজ্ঞের আগুনে

Thursday, March 21, 2013

স্বর কেন নিনাদ হল না


#
শব্দের দালানকোঠা
দর্পের কিছুটা বাকিটুকু
অন্ধের অন্ধকার জ্যোৎস্নার জলছবি
ফাঁকিবাজ ভুবন মিস্তিরির হাতে 
কলামবিহীন সব শাস্বত নির্মাণ

##
আঙিনায় বানভাসি তীব্র  জোয়ারের টান
ডুবে থাকা অন্তরীপ হাহাকার
বাহিত রক্তের লবনে ওঠা  শব্দের কলরোল
দিকচিহ্নহীন  এক মা ভুমের অনিমা লঘিমা জুড়ে জ্যাসনের সাফিনায় ভেসে ভেসে
ভেড়ার সোনাল লোম  লুব্ধক নক্ষত্রের আলো
ধরে ফেলে চোখের পাতায় 
একজন মানুষ শব্দের নিগড়ে শুধু
অস্তিত্বের জমিন বদলায় -

###
তথাগত তুমি কি বোঝোনি
পরমান্ন নিবেদনে শুধু সত্য ভিক্ষা নয়
আরও কিছু যাঞ্চা ছিল প্রীতিময় ...
সেই শাল্মলীতলে...

####
কবিতা তোমাকে আমি শব্দ দিয়ে কোনদিন চাইনি সাজাতে
তবু কেন কবিতার ঈশ্বর কবুতরী
বকম্ বকম্ থেকে গেল 

#####
সুনীল কি ঠিক বুঝেছিল -
কথা দিয়ে কথা কেন উদাসীন সঙ্গম শেখালনা
শব্দের শরীরে শুধু নেশার আমেজ
বেবুশ্যে নিম  হিম ঘোরের উত্তাপ  

######
তবু কিছু কথা থাকে
তিমি'র গন্ধের মত কিছু কিছু স্মৃতিগন্ধি শব্দঘ্রান
এখানে যেমন চার্বাক ডালে ঝুলে আছে -
যাও শব্দ উকি মেরে যাও চলে যাও
এখানে নাহয় প্রতিরাতে
বেবুশ্যে বাসর সাজাবে...

কালবৈশাখী


কালবৈশাখীর মেঘগুলো নেচে নেচে এসে আছড়াল তালগাছগুলোর মাথা আছারি পিছারি, কতকাল ডেকে ডেকে হায়রান
এতদিনে কাছে পেয়ে দারুন মাতাল যেন মাল খেয়ে আদাখেলে, ঝর্নার পারা অঝোরে বৃষ্টির জল দেখতে দেখতে থৈ থৈ পাড়ার পুকুর। রাস্তাঘাট চায়ের দোকান শুনশান, শুধু ঝড় বৃষ্টির কঞ্চের্তোঁ । একটা দিগন্তচেরা বিদ্যুৎের ফালা তীক্ষ্ণ ভালার মত এ ফোঁড় ও ফোঁড় করে দিল দুরের আকাশ নিঃশব্দে ।
চায়ের দোকানের ছেলেটা ঢাকার প্লাস্টিক নিয়ে দারুন বিব্রত , বাতাস সামলায় তো বৃষ্টির খিল খিলে উল্লাস আর
বৃষ্টি আটকায় তো বাতাস উড়িয়ে দেয় সমস্ত আড়াল
যেন উন্মত্ত প্রেমের প্যাসনে সমস্ত খুলে নিয়ে নগ্ন করে দেবে , ছেলেটা নাজেহাল - কাকে সামলায়! আমি দেখছি আর ভাবছি সুরঙ্গমা এরকমই হঠাৎ হঠাৎ এসে আছড়াত আর তার পর - কালবৈশাখী বেশিক্ষণ থাকেনা, পুকুর ভরাট দু চারটে ভাঙা ডাল এক আধটা বজ্রাহত তালগাছ এ সব ছাপিয়ে গিয়ে ছেড়ে গেল সিক্ত এক রেশ। জীবন ভিজেছে বরাবর সেই অট্টরোলে। আমি তো মরণ খুঁজে জীবনের কাছে শুধু ঋণ করে গেছি, নতজানু করে রাখে বুকের কবরে তাই অম্লান কবরী গন্ধ ।
কালবৈশাখী এলে তাই সুরঙ্গমা তুমি ফিরে আস আমার দর্শনে...

আবোল কিন্তু তাবোল নয়



বড় বেশী বোঝা টানার মানে বুঝি এই বোঝা টানার একটা স্বতসিদ্ধ দায় এসে পড়েছে। জ্ঞ্যানী হজরত না বোকা বেড়াল কিম্বা পাঁঠা। শালার বিধাতা মাথাটা ঘাড়ের ওপর দিল আর জগতসোমসার পুড়কি দিল ওটায় ব্রেন আছে। আমিও সে আঁচে গলে গেলুম। আহা কি সুখ সেই আলত ক্যাডবেরির সুখ। কিন্তু নিমজ্জিত সুখের অসুখে যেন একটা অলিখিত শাসানি রয়েছে - লাইনে এসো না হলে দানা পানি বন্দ।

হায়রে পিঞ্জিরা, রঙিলা স্বপন দিলি, পরানে আবির ঢালি, তারপর - বৃদ্ধ গ্যালিলিও পিসার মন্দিরে - সুখ আর অসুখ বকের পালকের মত ভেসে আছে, পাথরটা শুধু চিরকাল আগে আছড়ে পড়ে মাটির ওপর, মাধ্যাকর্ষণ, আর সামাজিক অভিকর্ষ - দুটোই বেশ বলশালী বস্তু।

একটা ক্লান্ত উড়ুক্কু বাইন লাফিয়ে উঠে দেখেছিল নদীটা সরে গেছে, ব্যাস নদী চাই নদী দাও, কান্নাকাটি। একটা গরিব মুচি ছেঁড়া নদীটার ক্যাঁতা সেলাই করে এনে বলল নাও ধর এইবার লাপাও যত খুশী। বাইন দেখে সে নদীতে কি ঢেউ কি ঢেউ, ব্যাস, লাফাতেই গা ভর্তি শ্যাওলা।

খরস্রোতা আদিম কোথায় তুমি, বাইনের ভেজা গা মুছতে গামছা চাই, নদীটা এগিয়ে দিল ভেজা শাড়ীর পাড়। সে সিক্ত বসনে ছিল কণ্ঠস্বর - আহ্লাদের।

গাঙ্গের নাগরী রাঙা ঠোঁট পান পাত্রে পিচ ফেলিয়া কয় বেভুলা নাই লজ্জা আমি, আমারে কাঁদাও, এক্ষুনি এত্তা জঞ্জাল বলে নাচ ধরব, তকন ঠ্যালাটি টের পাবে। যাও চলে যাও, শুদু ইসসে হলে গোপন চুমি দেবখন। আমিও চিরকুটের প্রেমের আশায় বাধিনু খেলাঘর, কিচেন আর ঘরের কার্নিশে অনেক আগাছা জন্মাল, আমি ঘোরে আছি, কখন গোপন চুমি আসবে।

একদিন দেখে নেব সব কিছু
খুঁড়ে নেব পর্দানশীন সব চুপকথা রুপকথাদের মাঠ
দেখে নেব সে আকাশে কোন মাতোয়ারা রাত্রিবাসের গন্ধ আছে কিনা
দেখে নেব বুঝে নেব মৌনতার শব্দ কোন স্তরে নিয়ে যেতে পারে

বিবিধ ...................................................



প্রাচীন ভারত। বিন্ধ্যারণ্য । মসীকৃষ্ণ অন্ধকার । অন্ধনালার প্রপাতে জল ঝরিবার আওয়াজ নৈস্তব্ধ কে ঝিঙ্গুরের একটানা ডাকের মত ভরিয়া রাখিয়াছে। সবার অতীত রহিয়াছে । শুধু বিশেষ হইলেই তাহা ইতিহাস হইয়া ওঠে। অতীত নাই সে অর্থে, তাই ভবিষ্যৎ কে কিঞ্চিত ইতিহাস গোত্রীয় করিবার অভীপ্সায় বাহির হইয়াছি, কাহিনী চাই, নচেৎ ইতিহাস হয় না। অরন্য ভ্রমন নহে, বিন্ধ্যারণ্যে রবারের বাগান - এতদিন মফঃস্বলে রুগী দেখিয়া বেরাইতাম, পরিজনহীন অতএব বৈকালিক চায়ের নিমন্ত্রন অব্যাক্ত ইচ্ছার ইশারা হইয়া রাত্রিকালীন ডিনার অবধি মাঝে মাঝেই গড়াইতে লাগিতেছিল, এবং ছাঁদনাতলা অভিমুখী ব্যাস্ততার উপক্রম দেখাইতেই পলাইয়াছি। রবার বাগানে ডাক্তারবাবু সে এক ভয়ঙ্কর সমীহ আদায়করা প্রানী, বিশেষ বাগানের শ্রমিক মজুরদের কাছে। সঠিক জানা হয় নাই, প্রায় তিরিশ হাজার গাছ, প্রতিদিন তিন চার হাজার কে জি রবারের কষ সংগ্রহ করা হয়। বিরাট বাগান, ততোধিক মজুর শ্রমিক। সন্ধ্যার অন্ধকার নামিবার পর খবর আসিয়াছিল রামদীনের পরিবারের লেবার উঠিয়াছে। যাইতেছিলাম পুবের ধাওর অভিমুখে, সাইকেলের বাতি অন্ধকার খদ্যোতের ন্যায় বীর বিক্রমে নিভাইতেছিল। আর আমি চলিয়াছিলাম প্রথম কান্নার উন্মেষের সাক্ষী ও কারিগর হইতে । এমতাবস্থায় হঠাৎ কানে আসিল পশ্চাদ্ধাবনের বড় বড় নিঃশ্বাসের শব্দ ও একটি টর্চের আলো মাঝে মাঝেই তির্যক ভাবে নিক্ষেপিত হইতেছে। দাঁড়াইলাম সাইকেল হইতে নামিয়া। অপেক্ষা করিতে হইল না। কাছে আসিতে চিনিলাম ঝারিলাল। কহিলাম - কি ঝারিলাল কি হয়েছে, হাঁপাচ্ছ কেন? একটু বাতাস টানিয়া ঝারিলাল কহিল - দাগদর বাবু জলদী চলেন, রামাই কে করৈত কাটল বা - হাম রসসি বাধ কে আপকো খোঁজনে নিক্লা - শুনা আপ রামদীন কে জরু ... রামাই পশ্চিমের ধাওরে থাকে, পুবে জীবন পশ্চিমে মৃত্যু - ইহার পর ডাগদার কি করিয়াছিল ...

হায় অরফিউস একদিকে জীবন আর অন্যদিকে মৃত্যুর সেরিনেড আর বিহ্বল ডাক্তার পথ উলটিয়ে খোঁজে কোনদিকে সে যাবে।

########

নষ্টদের নাকি পথ হারানোর ইজারা থাকে। "কোন রসে কোন রতির খেলা... জানলেই রসের মরম রসিক তারে যায় কি বলা" - এ দুনিয়াটা তো জ্যামিতিক তিন মাত্রায় বাঁধা আর চতুর্থ মাত্রায় তো সেই অবিসম্বাদি নেব্যুলাস আইটেম টা - সময়। রসের কাণ্ডারি হবার চেষ্টায় সময় দুর দার ছোটে আবার সময়ের কাণ্ডারি হতে গিয়ে রসের ভিয়েন এ টান পড়ে - তখন পথ অন্য তিনটে ডাইমেন্সানে ছোটাছুটি করে - তারপর ডিসপ্লে ডাইমেন্সন নিয়ে মাতামাতি ! না কি ঘনত্বের মাপ খোঁজে কুচকে যাওয়া অনুভুতির আস্তরন? যোজন যোজন জুড়ে নবী হওয়ার সাধ এক বাঁও দুই বাঁও এ এ না সুর ধরে।

রশি তো বেশীরভাগ এক দুই তেই তল ছোঁয়। রসের মরম - আগুন বুঝল কবে দহনের জ্বালা। শুধু বিব্রত মানুষগুলো ভাবে সবকিছু এখনও শেষ হয়ে যায় নি। তারপরেই শুরু কথার পাতাবাহারের প্লাবনশুদ্ধি।

########

খুব সংক্ষিপ্ত আলিঙ্গন। আঙুল আগে ছুঁয়েছিল তোমার দামী পোশাক। তবু ওইটুকুর মধ্যেই দামী সাবান আর তুষার পাতের মত বাতাসে ভেসে থাকা সুগন্ধ নাকে আর গায়ে জড়িয়ে গেল। পেজা তুলোর মত নিস্তব্ধতায় ভেসে রইল অনেকক্ষণ । নিজের অ্যাম্বিয়েন্ট টেম্পারেচার মাপতে মাপতে টের পেলাম বাইরেটা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। প্রত্যেকটা অনুভুতির একটা করে থ্যারম্যাল ডিজাইন থাকে। সেটা চারিয়ে থাকে ভেতরে বাইরে যতক্ষন সেই অনুভুতিটা কব্জায় রাখে।