প্রাচীন ভারত। বিন্ধ্যারণ্য । মসীকৃষ্ণ অন্ধকার । অন্ধনালার প্রপাতে জল ঝরিবার আওয়াজ নৈস্তব্ধ কে ঝিঙ্গুরের একটানা ডাকের মত ভরিয়া রাখিয়াছে। সবার অতীত রহিয়াছে । শুধু বিশেষ হইলেই তাহা ইতিহাস হইয়া ওঠে। অতীত নাই সে অর্থে, তাই ভবিষ্যৎ কে কিঞ্চিত ইতিহাস গোত্রীয় করিবার অভীপ্সায় বাহির হইয়াছি, কাহিনী চাই, নচেৎ ইতিহাস হয় না। অরন্য ভ্রমন নহে, বিন্ধ্যারণ্যে রবারের বাগান - এতদিন মফঃস্বলে রুগী দেখিয়া বেরাইতাম, পরিজনহীন অতএব বৈকালিক চায়ের নিমন্ত্রন অব্যাক্ত ইচ্ছার ইশারা হইয়া রাত্রিকালীন ডিনার অবধি মাঝে মাঝেই গড়াইতে লাগিতেছিল, এবং ছাঁদনাতলা অভিমুখী ব্যাস্ততার উপক্রম দেখাইতেই পলাইয়াছি। রবার বাগানে ডাক্তারবাবু সে এক ভয়ঙ্কর সমীহ আদায়করা প্রানী, বিশেষ বাগানের শ্রমিক মজুরদের কাছে। সঠিক জানা হয় নাই, প্রায় তিরিশ হাজার গাছ, প্রতিদিন তিন চার হাজার কে জি রবারের কষ সংগ্রহ করা হয়। বিরাট বাগান, ততোধিক মজুর শ্রমিক। সন্ধ্যার অন্ধকার নামিবার পর খবর আসিয়াছিল রামদীনের পরিবারের লেবার উঠিয়াছে। যাইতেছিলাম পুবের ধাওর অভিমুখে, সাইকেলের বাতি অন্ধকার খদ্যোতের ন্যায় বীর বিক্রমে নিভাইতেছিল। আর আমি চলিয়াছিলাম প্রথম কান্নার উন্মেষের সাক্ষী ও কারিগর হইতে । এমতাবস্থায় হঠাৎ কানে আসিল পশ্চাদ্ধাবনের বড় বড় নিঃশ্বাসের শব্দ ও একটি টর্চের আলো মাঝে মাঝেই তির্যক ভাবে নিক্ষেপিত হইতেছে। দাঁড়াইলাম সাইকেল হইতে নামিয়া। অপেক্ষা করিতে হইল না। কাছে আসিতে চিনিলাম ঝারিলাল। কহিলাম - কি ঝারিলাল কি হয়েছে, হাঁপাচ্ছ কেন? একটু বাতাস টানিয়া ঝারিলাল কহিল - দাগদর বাবু জলদী চলেন, রামাই কে করৈত কাটল বা - হাম রসসি বাধ কে আপকো খোঁজনে নিক্লা - শুনা আপ রামদীন কে জরু ... রামাই পশ্চিমের ধাওরে থাকে, পুবে জীবন পশ্চিমে মৃত্যু - ইহার পর ডাগদার কি করিয়াছিল ...
হায় অরফিউস একদিকে জীবন আর অন্যদিকে মৃত্যুর সেরিনেড আর বিহ্বল ডাক্তার পথ উলটিয়ে খোঁজে কোনদিকে সে যাবে।
########
নষ্টদের নাকি পথ হারানোর ইজারা থাকে। "কোন রসে কোন রতির খেলা... জানলেই রসের মরম রসিক তারে যায় কি বলা" - এ দুনিয়াটা তো জ্যামিতিক তিন মাত্রায় বাঁধা আর চতুর্থ মাত্রায় তো সেই অবিসম্বাদি নেব্যুলাস আইটেম টা - সময়। রসের কাণ্ডারি হবার চেষ্টায় সময় দুর দার ছোটে আবার সময়ের কাণ্ডারি হতে গিয়ে রসের ভিয়েন এ টান পড়ে - তখন পথ অন্য তিনটে ডাইমেন্সানে ছোটাছুটি করে - তারপর ডিসপ্লে ডাইমেন্সন নিয়ে মাতামাতি ! না কি ঘনত্বের মাপ খোঁজে কুচকে যাওয়া অনুভুতির আস্তরন? যোজন যোজন জুড়ে নবী হওয়ার সাধ এক বাঁও দুই বাঁও এ এ না সুর ধরে।
রশি তো বেশীরভাগ এক দুই তেই তল ছোঁয়। রসের মরম - আগুন বুঝল কবে দহনের জ্বালা। শুধু বিব্রত মানুষগুলো ভাবে সবকিছু এখনও শেষ হয়ে যায় নি। তারপরেই শুরু কথার পাতাবাহারের প্লাবনশুদ্ধি।
########
খুব সংক্ষিপ্ত আলিঙ্গন। আঙুল আগে ছুঁয়েছিল তোমার দামী পোশাক। তবু ওইটুকুর মধ্যেই দামী সাবান আর তুষার পাতের মত বাতাসে ভেসে থাকা সুগন্ধ নাকে আর গায়ে জড়িয়ে গেল। পেজা তুলোর মত নিস্তব্ধতায় ভেসে রইল অনেকক্ষণ । নিজের অ্যাম্বিয়েন্ট টেম্পারেচার মাপতে মাপতে টের পেলাম বাইরেটা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। প্রত্যেকটা অনুভুতির একটা করে থ্যারম্যাল ডিজাইন থাকে। সেটা চারিয়ে থাকে ভেতরে বাইরে যতক্ষন সেই অনুভুতিটা কব্জায় রাখে।
No comments:
Post a Comment