Thursday, November 3, 2011

মুহূর্তের ব্যাতিরেকে - একটি কবিতা

ভালুমারের জঙ্গলের হাট
দিনশেষের হাটে - ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা
বাঁশের চ্যাঙ্গারি আর শালপাতার দোনা ঘেঁটে 
খাবার খুঁজতে থাকা বুড়িটার চোখ গেল
সূর্যাস্তের দিকে হেঁটে যাওয়া উলঙ্গ পাগলটার দিকে।

আজানুলম্বিত বাহু, মনুজেন্দ্র ভঙ্গি তার হাঁটার ছন্দেতে,
শীর্ণকান্তি কাঁধের ওপরে একমাথা জটাধারী নোংরা রুক্ষ চুল।
দীনতার শীর্ণতার জীর্ণতার যদি কোন রূপ থাকে
এ ছবিতে ছিল সেটা অদ্ভুত সুন্দর 
আমি মগ্ন হলাম স্কেচ প্যাড পেন্সিল নিয়ে।
“অ্যাঁ মল যা, একটা ত্যানাও জোটেনি—“
আমার মগ্ন থাকা নগ্নতার রক্তিমতা নিয়ে কাগজের পরে
বেদম চটকে গেল। 
দুঃখ নাকি শিল্পের জননী, শিল্পের তত্ত্ববোধ বলে
তাহলে মূর্তিমতী দুঃখ ওই বুড়ীটার কথার বাঁধনে কোন 
শিল্প নেই কেন?
ভাস্কর্য প্রতীম ওই পাগলের উলঙ্গ অঙ্গ শুধু ওর চোখে পড়ে!
একি কোন ভিন্ন ক্ষুধা?
জরতীর শীৎকার পাগলের কানে বুঝি হল্লা হয়ে বেজেছিল।
“ হারামজাদি, তু হেথাকেও –“
বুড়িটার আর্তনাদ, ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মত পাগলের ধেয়ে আসা,
মুহূর্তের ব্যাতিরেকে ভেঙ্গে খান্ খান্ শিল্পের সমস্ত আবেদন,
দেখা দিল পাগলের শারীরী অন্বয় কুৎসিত ভঙ্গী হয়ে।
বুড়িটা কি ঠিক ছিল?
ওটা যদি শুধু শিল্প হত, নিটোল ভাস্কর্যের মত
ওটা যদি সৌন্দর্যের শুধু কোন মূর্তরূপ হত
যা শুধু সুন্দর হয়।
কিন্তু ও’তো শুধু তাই নয়-যা শুধু সুন্দর হয়,
তাই ওর শারীরী অন্বয় কুৎসিত ভঙ্গি হয়ে
সনাতনী শিল্পবোধ ভেঙ্গে চুড়মার করে।
দিনের আলো নিভু নিভু হলে
ভালুমারের জঙ্গলের হাটে পাগল পাগলই থাকে,
বুড়ীটাও ব্যাস্ত থাকে ছেঁড়া ফাটা নিয়ে।

No comments:

Post a Comment